-6ac09af25cc9e.webp)
ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে গুলির ঘটনায় দুই পাকিস্তানি নাগরিক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২ অক্টোবর) পাঞ্জাবের সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) গুলি চালালে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন বলে পাকিস্তানি নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। একই ঘটনার বিষয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের বর্ণনা ভিন্ন।
পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম রেডিও পাকিস্তানের প্রতিবেদনে বলা হয়, পূর্বাঞ্চলীয় কাসুর জেলার লাধার গ্রামের তিন বাসিন্দা সীমান্তের একটি পিলারের কয়েক ধাপ সামনে যাওয়ার পর বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালান। এতে দুজন নিহত ও একজন আহত হন। পাকিস্তানি নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, তিনজনই নিরস্ত্র ছিলেন এবং তারা সীমান্তের বেড়া পার হওয়ার চেষ্টা করেননি।
নিহত দুজনের নাম আজমত রাসুল ও মোহসিন জাট বলে জানিয়েছে পাকিস্তানি সূত্র। তাদের দুজনেরই বাড়ি লাধার গ্রামের জাট্টান ওয়ালি হাভেলিতে। পাকিস্তানের কর্মকর্তারা ঘটনাটিকে সীমান্তসংক্রান্ত চুক্তি ও প্রচলিত নিয়মের লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে ঘটনাটির ভিন্ন বিবরণ এসেছে। ‘ইন্ডিয়া টুডে’ ও ‘হিন্দুস্তান টাইমস’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাঞ্জাবের তারন তারন জেলার রাজোকে এলাকার কাছে বিএসএফ সদস্যরা দুই সন্দেহভাজন পাকিস্তানি অনুপ্রবেশকারীকে দেখতে পান। তাদের থামার জন্য সতর্ক করা হলেও তারা ভারতের দিকে এগিয়ে আসতে থাকলে বিএসএফ গুলি চালায় বলে ভারতীয় কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে।
পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হলেও ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। দুই দেশের সংবাদমাধ্যমের বর্ণনায় ঘটনাস্থল ও পরিস্থিতি নিয়ে যে পার্থক্য রয়েছে, তা স্বাধীনভাবে পুরোপুরি যাচাই করা যায়নি।
সীমান্তে এই গুলির ঘটনা এমন সময়ে ঘটল, যখন এর এক দিন আগে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী ভারতের একটি দাবি প্রত্যাখ্যান করেছিল। ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে লস্কর-ই-তাইবার এক শীর্ষ কমান্ডারকে হত্যা করেছে বলে দাবি করেছিল। তবে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী ওই দাবি নাকচ করে একজন ব্যক্তিকে সংবাদ সম্মেলনে হাজির করে এবং জানায়, ভারত ভুল ব্যক্তিকে নিহত জঙ্গি হিসেবে শনাক্ত করেছে।
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীন হওয়ার পর ভারত ও পাকিস্তান তিনবার যুদ্ধে জড়িয়েছে। এর মধ্যে দুটি যুদ্ধের কেন্দ্র ছিল কাশ্মীর। বিতর্কিত এই অঞ্চলটি বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে বিভক্ত হলেও ভারত ও পাকিস্তান উভয়ই পুরো কাশ্মীরের ওপর নিজেদের দাবি করে আসছে।
২০২৫ সালের এপ্রিলে ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে বন্দুকধারীদের হামলায় ২৬ পর্যটক নিহত হন। নয়াদিল্লি হামলার জন্য ইসলামাবাদকে দায়ী করলেও পাকিস্তান তা অস্বীকার করে। এরপর দুই দেশের মধ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে সামরিক উত্তেজনা বেড়ে যায় এবং পাল্টাপাল্টি হামলাও হয়।