
জ্বালানি বাজারে সরবরাহ বাড়াতে জি-৭ দেশগুলো জরুরি মজুত থেকে বিপুল পরিমাণ তেল ও ডিজেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের ডিজেল রপ্তানি বন্ধের পরিকল্পনা থেকে সরে আসার কথা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (২ অক্টোবর) হোয়াইট হাউস ছাড়ার আগে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ডিজেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে না।
ট্রাম্প বলেন, এমন নিষেধাজ্ঞা আরোপের ইচ্ছা তার কখনোই ছিল না। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ডিজেল রপ্তানি বন্ধের সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছিল, যা নিয়ে ইউরোপসহ আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ তৈরি হয়।
এদিকে জি-৭ নেতারা আগামী চার মাসে জরুরি মজুত থেকে ১০ কোটি ব্যারেল ডিজেল ও অপরিশোধিত তেল বাজারে ছাড়ার বিষয়ে একমত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) সমন্বয়ে তাৎক্ষণিকভাবে এ কার্যক্রম শুরু হবে। প্রথম ২০ দিনের মধ্যেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডিজেল বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
শুক্রবার জি-৭ নেতাদের ভার্চুয়াল বৈঠকের পর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। জি-৭-এর যৌথ বিবৃতিতেও জরুরি মজুত থেকে ১০ কোটি ব্যারেল জ্বালানি ছাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে জি-৭ দেশগুলো নিজেদের মধ্যে জ্বালানি ও জ্বালানি পণ্য রপ্তানিতে বিধিনিষেধ না দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে। একই সঙ্গে অন্যান্য উৎপাদক দেশকেও এমন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া জি-৭ দেশগুলোর শোধনাগারগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম সমন্বয়ের মাধ্যমে একই সময়ে একাধিক শোধনাগার বন্ধ হয়ে যাওয়া ঠেকানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। সম্ভব হলে শোধনাগারগুলোর উৎপাদন সক্ষমতার ব্যবহারও সাময়িকভাবে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে ঊর্ধ্বগতির মধ্যে জি-৭-এর এই উদ্যোগ নেওয়া হলো। যুক্তরাষ্ট্রের ডিজেল রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার সম্ভাবনা নিয়ে ইউরোপের পক্ষ থেকেও উদ্বেগ জানানো হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত জরুরি মজুত থেকে জ্বালানি ছাড়ার পাশাপাশি জি-৭ দেশগুলোর মধ্যে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা না দেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে।