
জামায়াতে ইসলামীর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড ও পশ্চিমা সমর্থন পাওয়ার চেষ্টার সমালোচনা করে দলটির নেতাকর্মীদের সতর্ক করেছেন ইসলামিক বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী। একই সঙ্গে আল্লামা সাঈদীর শাহাদাতে গড়ে ওঠা দলটির ভাবমূর্তি ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়—এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (২ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক পোস্টে জামায়াতের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা মন্তব্য করেন রফিকুল ইসলাম মাদানী। সেখানে তিনি পশ্চিমা সন্তুষ্টির জন্য ইসলামপন্থীদের সঙ্গে জামায়াতের বিরোধে জড়ানোর অভিযোগ তোলেন।
রফিকুল ইসলাম মাদানী লেখেন, ‘মমতাজ আওয়ামী লীগেও একটা ছিল, এখন জামাতেও একটা আসছে। পার্থক্য-আওয়ামী লীগেরটা খোলামেলা, সে বাউল শিল্পী, তার কাজও সরাসরি, সে ওপেন ফাইট্টা যায় ছিঁইড়া যায় বলত!’
তিনি লেখেন, ‘আর এটা হিজাব পরে ইসলামের নামে ধোঁকা দিয়ে সবকিছু ফাটাইলতাছে, ছিঁড়ালতাছে, ইসলামের ক্ষতি করতাছে!’
তিনি আরও লেখেন, ‘ঐ মমতাজও সংসদে সবজান্তা মাতব্বরের মতো সিয়াসিত্তার হাদিস কউত, এটাও সবজান্তা হাদিস বলে! ভাবসাবও সেইম!’
জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে মাদানী লেখেন, ‘কেন জানি মনে হচ্ছে, জামাত পশ্চিমাদের থেকে ক্ষমতা পাওয়ার আশায় এদেশের ইসলামপন্থীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে চ্যালেঞ্জ করে বসছে—আমরা ইসলামের নামে যা তা করব, পারলে কী করবা কর?’
তিনি আরও লেখেন, ‘এরা ভাবতেছে, আওয়ামী লীগের চ্যাপ্টার ক্লোজ, বিএনপি এখন পাওয়ারে আছে, আর বাঙালি টানা ২ টার্মে কাউকে ভোট দিয়ে পাস করাবে না। অতএব, আগামী টার্মে আমরা কনফার্ম—সমস্যা ভোটের মাঠে নাই!’
‘সমস্যা পশ্চিম। তারা যদি মনে করে আমরা ইসলামপন্থী, তাহলে আমাদের আসতে দিবে না। যেটা উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানের কথায় বুঝা যায় এবারই হইছে!’
ইসলামিক এই বক্তা লেখেন, ‘অতএব, পশ্চিমের কাছে নিজেদের প্রমাণ করতে হবে—আওয়ামী লীগ-বিএনপির চেয়েও আমরা আল্ট্রা ফ্রো-মেক্স স্টাইলে আরও আপডেট পুরোপুরি সেকুলার আমরাও! পূর্বে যা কেউ করে নাই, সেগুলোও আমরা করব।’
‘এগুলো করে পশ্চিমকে বুঝাচ্ছে এই দেখুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা প্রথম হাফ প্যান্ট পরে বাস্কেটবল আয়োজন করছি মেয়েদের! সারাদেশে এত এত সমালোচনা, তারপরও আমরা আমাদের মহিলা এমপিকে দিয়ে খেলার পুরস্কার দিয়েছি। এটাই আমাদের কাছে ইসলাম!’
জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে নিজের ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথাও তুলে ধরে মাদানী লেখেন, ‘জামাত-শিবিরকে বলি, ভাইরে—আমার কষ্টের জীবনে আপনারা সহযোগিতা করছেন, খোঁজখবর নিছেন। তাই আপনাদের প্রতি একটা ইমোশন-সিমপ্যাথি কাজ করে। আপনাদের দলীয় অবস্থান নিয়ে অন্যদের মতো আমি বিরোধিতা করি না, সমালোচনার জন্য সমালোচনাও করি না।’
‘কিন্তু আপনারা যদি এভাবে পশ্চিমাদের খুশি করার জন্য ওপেন আমাদের চ্যালেঞ্জ করেন, তাহলে শুধুমাত্র ইস্যুভিত্তিক বিরোধিতা করব না!’
তিনি লেখেন, ‘আমাকে মেরে ফেলা না হলে, আমি একা বিরোধিতায় লাগলে লোড নিতে পারবেন না, পাগল হয়ে যাবেন!’
সবশেষে জামায়াতের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রফিকুল ইসলাম মাদানী লেখেন, ‘প্লিজ, আল্লাহর ওয়াস্তে, আল্লামা সাঈদী রহ.-এর শাহাদাতে রঞ্জিত দলটাকে আর নিচে নামায়েন না! আপাতত এতটুকু চাওয়া!’