
উত্তর কোরিয়া আবারও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় বন্দরনগরী ওয়ানসান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রটি ৭০০ কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়ে পূর্ব উপকূলের সাগরে গিয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী।
দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ (জেসিএস) জানায়, ক্ষেপণাস্ত্রটি স্থানীয় সময় সকালে উৎক্ষেপণ করা হয়। উৎক্ষেপণের পরপরই সম্ভাব্য আরও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে যায় দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী।
ঘটনার পর পরিস্থিতি পর্যালোচনায় জরুরি বৈঠক করে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা দপ্তর। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করছে সিউল।
উত্তর কোরিয়ার উৎক্ষেপণের পর জাপানও সতর্কতা জারি করে। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানায়, উত্তর কোরিয়া একটি সন্দেহভাজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের বিষয়ে তারা অবগত এবং মিত্র ও অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যোগাযোগ করছে। তাদের প্রাথমিক মূল্যায়নে, এই উৎক্ষেপণ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, ভূখণ্ড কিংবা মিত্রদের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি তৈরি করেনি।
উত্তর কোরিয়ার এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের এক দিন আগে দুই কোরিয়ার সীমান্ত নিয়েও উত্তেজনা তৈরি হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী ও জাতিসংঘ কমান্ডের অভিযোগ ছিল, সামরিক সীমারেখার দক্ষিণে উত্তর কোরিয়ার পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনা গুরুতর আহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় উত্তর কোরিয়ার কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছিল সিউল। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় মাইন পুঁতে রাখা এবং ট্যাংকবিরোধী প্রতিবন্ধক স্থাপনের মতো প্রতিরক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করার আহ্বান জানায় দক্ষিণ কোরিয়া।
তবে এসব অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং। দক্ষিণ কোরিয়ার দাবিকে ‘অত্যন্ত করুণ’ বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়া দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক স্থায়ীভাবে ছিন্ন করার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর সর্বশেষ এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যেই ঘটল। ক্ষেপণাস্ত্রটি কোথায় পড়েছে এবং এর ধরন ও পাল্লা নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চালিয়ে যাচ্ছে।