
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সক্রিয়ভাবে অংশ নিলেও দলটির আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম, যিনি চরমোনাই পীর নামে পরিচিত, এবার নিজে প্রার্থী হননি। দলীয় সূত্র জানায়, সংগঠনের সামগ্রিক কৌশল এবং বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনা করেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একাধিক দায়িত্বশীল নেতা জানান, দলটির আমির শুরু থেকেই ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতির পরিবর্তে নীতিনিষ্ঠ ও আদর্শভিত্তিক রাজনৈতিক ধারা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রার্থী হয়ে মাঠে নামার চেয়ে নেতৃত্বের কেন্দ্রে থেকে পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া তদারকি করা এবং প্রার্থীদের মধ্যে সমন্বয় রক্ষা করাই বেশি কার্যকর বলে মনে করছেন সৈয়দ রেজাউল করীম।
দলটির কেন্দ্রীয় নেতা মুফতি রেজাউল করীম আবরার বলেন, ইসলামী আন্দোলনের আমিরের নির্বাচনে না দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নতুন কিছু নয়। অতীতের বিভিন্ন নির্বাচনেও তিনি প্রার্থী না হয়ে দলের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও দিকনির্দেশনার দায়িত্ব পালন করেছেন। এবারও সেই নীতির ধারাবাহিকতাই বজায় রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফ বলেন, ‘মুহতারাম আমিরের মূল লক্ষ্য ইসলামী শাসনব্যবস্থা ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার ধারণাকে জনগণের মাঝে পৌঁছে দেওয়া। তাই দলের সিদ্ধান্তে নির্বাচনে প্রার্থী না হয়ে তিনি নেতৃত্বের আসনে থেকে দলের সার্বিক দেখভাল করছেন। তিনি মনে করেন, নেতৃত্বের জায়গা থেকে সংগঠনকে শক্তিশালী করাই এই সময়ে বেশি জরুরি।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, নির্বাচনী মাঠে প্রার্থী দিয়ে সক্রিয় থাকা সত্ত্বেও দলীয় আমিরের নির্বাচন থেকে সরে থাকা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একটি সুপরিকল্পিত কৌশলগত সিদ্ধান্ত।
উল্লেখ্য, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৭২টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে।
দলটির প্রচার ও দাওয়াহ বিভাগ জানায়, শীর্ষ নেতাদের মধ্যে সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বরিশাল-৫ ও বরিশাল-৬ আসন থেকে, নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল আউয়াল খুলনা-৩, প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী ঢাকা-৪, মহাসচিব মাওলানা ইউনুস আহমদ খুলনা-৪, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান গাজীপুর-৫, ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম কুমিল্লা-২, অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ ঢাকা-১১, সহকারী মহাসচিব কে এম আতিকুর রহমান মুন্সীগঞ্জ-১, মাওলানা আহমদ আব্দুল কাইয়ুম কুমিল্লা-৩, সৈয়দ এসহাক মুহাম্মাদ আবুল খায়ের বরিশাল-৪ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ ইফতেখার তারিক ঢাকা-৯ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।