
নোয়াখালীতে প্রায় ৫ কোটি টাকা মূল্যের সরকারি পানির পাইপ মাত্র ১৯ লাখ টাকায় গোপনে বিক্রি করার ঘটনায় জেলা জুড়ে তীব্র সমালোচনা ছড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টি নজরে আসার পর প্রধান প্রকৌশলী সরেজমিন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম সার্কেলের প্রকৌশলী তদন্ত কমিটির প্রধান মোহাম্মদ আলী আজগর ঘটনাস্থলে সরেজমিন তদন্ত করেন।
স্থানীয় ঠিকাদার ও সূত্র জানিয়েছে, জেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যবহারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষিত থাকা বিপুল পরিমাণ জিআই ও পিভিসি পাইপ ‘অব্যবহৃত’ দেখিয়ে গোপনে নিলামে তোলা হয়েছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, বাজার মূল্য ও প্রকল্প মূল্যের প্রায় ৫ কোটি টাকার পাইপ মাত্র ১৯ লাখ টাকায় বিক্রি দেখানো হয়েছে।
ঠিকাদারদের অভিযোগ, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রকাশ্য নোটিশ, প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র বা মূল্য নির্ধারণ কমিটির সুপারিশ ছাড়া নির্দিষ্ট একটি পক্ষকে সুবিধা দেওয়ার জন্য গোপন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এতে রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তারা মনে করছেন।
তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী আজগর সাংবাদিকদের জানান, “বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ৭ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে নির্দেশ দিয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আরও কার্যকরভাবে যাচাই-বাছাই করা সম্ভব হবে।”
তদন্তে জানা গেছে, ড্যানিডা প্রকল্পের অর্থায়নে সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার বিভিন্ন ধরনের পাইপ ও নির্মাণ সামগ্রী নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের একটি গুদামে সংরক্ষিত ছিল। এগুলো কথিত দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে একটি পত্রিকায় নামমাত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নিলামে তোলা হয়।
পরে নির্বাহী প্রকৌশলী ও অফিসের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে, আওয়ামী লীগ নেতা শাহনাজসহ কয়েকজনের নামে পাইপগুলো মাত্র ১৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় নিলামে বিক্রি করে সুবর্ণচরের চরবাটা ও চর আমানউল্লা এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হয়।
ঠিকাদারদের অভিযোগ, দেড় ইঞ্চি ব্যাসের ৪৮ হাজার এবং তিন ইঞ্চি ব্যাসের ২৮ হাজার পাইপসহ প্রায় ১৫ লাখ ২০ হাজার ফুট পাইপ নিলামে বিক্রি করা হয়েছিল। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। কিন্তু এটি গোপন করে মাত্র ১৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে এবং সরকারের বিপুল অর্থ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
এ ঘটনা জনসমক্ষে আসার পর ঠিকাদাররা সোমবার দুপুরে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর কার্যালয়ে গেলে নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামসহ কর্মকর্তারা অফিস ছেড়ে চলে যান।