
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামী জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের (ডিসি-এসপি) পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছে। দলটি বলেছে, যারা লটারির মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছেন, তাদের ‘দলীয়’ আখ্যা দিয়ে সরানো জরুরি, যাতে নির্বাচনের মাঠে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা যায়।
বুধবার (৬ জানুয়ারি) প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করে জামায়াতের নেতারা এই দাবি তুলে বলেন, নির্বাচন পরিচালনায় বৈষম্য বা পক্ষপাত এড়াতে এই পদক্ষেপ নেওয়া আবশ্যক।
জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সাংবাদিকদের বলেন, “মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বৈষম্য হয়েছে। একই ধরনের ঘটনায় বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, কারণ কিছু এলাকায় দলীয় ডিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “যেসব দলীয় ডিসি ও এসপি রয়েছেন, তাঁদের অপসারণ করে নিরপেক্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিতে হবে।”
এর আগে ১১ নভেম্বর নির্বাচন কমিশনের সংলাপে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার লটারির মাধ্যমে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বদলির প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সেই সময় বলা হয়েছিল, লটারির মাধ্যমে বদলি হলে কারও পক্ষপাতের অভিযোগ থাকবে না। তবে এই পদ্ধতি এসপি নিয়োগে কিছু জেলায় প্রয়োগ করা হলেও ডিসি পদায়নে তা অনুসরণ করা হয়নি।
জামায়াতের অভিযোগ, নির্বাচনের মাঠে এখনও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হয়নি এবং একটি নির্দিষ্ট দলকে প্রচারণার অস্বাভাবিক সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া প্রার্থীদের নিরাপত্তা প্রদানে বৈষম্যের কথাও উল্লেখ করেন ডা. তাহের। তিনি বলেন, “কিছু ব্যক্তিকে অতিরিক্ত নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে, আবার অন্যদের দেওয়া হচ্ছে না।”
ডা. তাহের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর প্রথম নির্বাচন যদি ‘অ্যারেঞ্জড’ হয়, তবে দেশের অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে। নির্বাচন কমিশনকে এটি প্রতিপাদন করতে হবে যে তারা সত্যিকার অর্থে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা করছে।”
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।