
শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে একজন ওয়ার্ড কমিশনারের নির্দেশে ঘটনা ঘটেছে- এমন ব্যাখ্যা অবিশ্বাস্য বলে মন্তব্য করেছেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। তার দাবি, এই হত্যার পেছনে একটি সুসংগঠিত চক্রের পাশাপাশি রাষ্ট্রযন্ত্রও জড়িত রয়েছে। তাই এ মামলায় দাখিল করা অভিযোগপত্র তারা মানেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন তিনি।
মঙ্গলবার (০৭ জানুয়ারি) রাত সাড়ে আটটার দিকে শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি শেষ করে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আবদুল্লাহ আল জাবের।
অভিযোগপত্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সরকার বলেছে যে একজন ওয়ার্ড কমিশনার নাকি ওসমান হাদিকে গুলি করার নির্দেশ দিয়েছে। যার বদৌলতে ফয়সাল করিম মাসুদ খুন করেছে। এটা তো পাগলেও বিশ্বাস করবে না। ওসমান হাদিকে খুনের সঙ্গে একটা পুরো খুনের চক্র জড়িত রয়েছে। এই খুনের পেছনে রাষ্ট্রযন্ত্র জড়িত রয়েছে। তাদের বিচারের মুখোমুখি না করা পর্যন্ত আমাদের এই লড়াই থামবে না। যেই চার্জশিটে তাদের নাম নেই, সেই চার্জশিট মানি না।’
এদিন তদন্ত শেষে শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলায় মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের তথ্য নিশ্চিত করেন ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, নতুন ধারার রাজনীতি শুরু করায় ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মিরপুর এলাকার সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী (বাপ্পী)-এর নির্দেশনা ও পরিকল্পনায় ওসমান বিন হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
সরকারের অবস্থান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করে সরকারকে বিচার নিশ্চিতের বার্তা দিতে চেয়েছি। কিন্তু সরকার সেই বার্তা আমলে নিয়েছে কি না, সেটা দাখিল হওয়া অভিযোগপত্রের মাধ্যমে বুঝতে পেরেছি। সরকার জনগণকে বোকা মনে করেছে।’
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকার যদি শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয় এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদকে দেশ থেকে বিদায় করতে না পারে, তাহলে এর পরিণতি কী হবে—সিদ্ধান্ত নেবে জনগণ। তার ভাষায়, এই জনগণ রক্ত দিয়েছে, প্রয়োজনে রক্ত নিতেও জানে।
আগামী দিনের কর্মসূচির ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, ‘এমন কর্মসূচিও আসতে পারে যে আইন উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে পদত্যাগ করিয়ে তারপর আমরা যাব।’ আগামীকাল নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তিনি।
এর আগে সকাল থেকে রাত আটটা পর্যন্ত রাজধানীর ১০টি স্থানে ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি পালন করে ইনকিলাব মঞ্চ। ১০টি পিকআপ ভ্যানে করে এই কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়।
সকাল সাড়ে ১১টায় শাহবাগের শহীদ হাদি চত্বর থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি সায়েন্স ল্যাবের সিটি কলেজ, মোহাম্মদপুর তিন রাস্তার মোড়, রায়েরবাজার বধ্যভূমি, মিরপুর-১০ গোলচত্বর, উত্তরার বিএনএস সেন্টার, যমুনা ফিউচার পার্ক, বাড্ডার ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, রামপুরা টিভি সেন্টার ও যাত্রাবাড়ী পার্ক ঘুরে আবার শাহবাগে এসে শেষ হয়। রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে গিয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের কবর জিয়ারত করেন নেতাকর্মীরা।
শাহবাগে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘আমরা চার দাবি নিয়ে পুরো ঢাকা শহর ঘুরেছি। আমাদের একটি দাবিও যদি অযৌক্তিক মনে হয় বলবেন। আর যদি যৌক্তিক মনে হয়, তাহলে দাবিগুলো নিশ্চিত করা আপনাদের দায়িত্ব, বুঝে নেওয়া আপনাদের দায়িত্ব। আমাদের এক হাতে ছিল পতাকা এবং আরেক হাতে ছিল হাদি হত্যার বিচার। হাদি হত্যার বিচার না হলে এই পতাকা অক্ষুণ্ন থাকবে না।’