
কলকাতার অ্যাপোলো হাসপাতালে ভেন্টিলেশনে থাকা ওবায়দুল কাদেরকে আর নতুন কোনো চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। হাসপাতাল সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই সংকটাপন্ন পরিস্থিতিতে পরিবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাকে কলকাতার বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হবে। বাড়িতেই চিকিৎসক ও লাইফ সাপোর্ট সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করা হবে।
গত শুক্রবার, ২ জানুয়ারি, আচমকাই তার শারীরিক অবস্থার তীব্র অবনতি হলে প্রায় অসংজ্ঞায়িত অবস্থায় তাকে কলকাতার বাইপাসের কাছে অ্যাপোলো হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগের কারণে কিছুদিন ধরে শয্যাশায়ী ছিলেন ওবায়দুল কাদের। বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, কলকাতার নিউ টাউনের বাড়িতেও আগে অক্সিজেন সুবিধা চলছিল। হাসপাতালে ভর্তি হবার পরই তাকে ভেন্টিলেশনে নেওয়া হয়। তখন হাসপাতাল সূত্র জানায়, তিনি চিকিৎসার সাড়া দিচ্ছেন, তবে অবস্থার গুরুতরতা রয়েছে।
গত জুনে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, তিনি এখনো কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। সেই সময় তিনি উল্লেখ করেছিলেন, বর্তমানে তিনি ভারতের কলকাতায় অবস্থান করছেন। তিনি আরও জানান, জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের পর তিন মাস তিনি বাসা বদল করে আত্মগোপনে ছিলেন এবং ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে দেশে থেকে বের হয়েছেন।
গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের দমননীতির কারণে ক্ষমা চাওয়ার প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেছিলেন, "তারা যখন দেশে এসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর পরিবেশ পাবেন, তখন ক্ষমা চাওয়া, ভুল স্বীকার করা বা অনুশোচনার বিষয় আসবে।"
ওবায়দুল কাদের ২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও, ২০১১ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। নোয়াখালী-৫ আসন থেকে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া এই প্রভাবশালী নেতা দলের উচ্চ পর্যায়ের কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত।