
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (অব.) ব্রিগেডিয়ার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সেলের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে হলে ভোটের আগেই ঝুঁকিপূর্ণ সব অস্ত্র নিষ্ক্রিয় করা জরুরি বলে তিনি মত দেন।
সভায় নির্বাচন কমিশনার বলেন, “নির্বাচনের আগে যাতে কোনো ধরনের অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার না হতে পারে, এ জন্য অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার খুব জরুরি।” তিনি জানান, জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের পর বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদের একটি বড় অংশ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তার ভাষায়, “জুলাই অভ্যুত্থানের পরে থানা থেকে লুট হওয়া ১৫ শতাংশ অস্ত্র ও ৩০ শতাংশ গুলি এখনো উদ্ধার হয়নি।” এসব অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর নিরাপত্তা নিয়েও সতর্কবার্তা দেন ইসি সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, “ক্যাম্পগুলো সিল করে দিতে হবে। স্থলসীমান্ত ও সাগরপথেও নজরদারি বাড়াতে হবে। যাতে কোনোভাবেই দুষ্কৃতকারীরা এগুলো ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটিত করতে না পারে।” একই সঙ্গে তিনি জাতীয় নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ নির্বাচন ভালো করতে না পারলে সবাইকে এর পরিণতি ভোগ করতে।”
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের বিভিন্ন থানা, ফাঁড়ি, পুলিশ বক্স ও অন্যান্য ইউনিট স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এসব হামলার সময় পুলিশি স্থাপনা থেকে মোট ৫ হাজার ৭৫৩টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট হয়।