
সরকার গুম হওয়া ব্যক্তির পরিবারের আইনি সুরক্ষা ও উত্তরাধিকার নিশ্চিত করতে নতুন সংশোধিত অধ্যাদেশ জারি করেছে। এই অধ্যাদেশের তথ্য আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের মুদ্রণ ও প্রকাশনা শাখা মঙ্গলবার (৫ জানুয়ারি) বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে। অধ্যাদেশটি জনসাধারণের জন্য গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে।
বুধবার (৬ জানুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের পাবলিক রিলেশন অফিসার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
অধ্যাদেশের মূল সুবিধা:
নতুন সংশোধনীর মাধ্যমে যদি কোনো ব্যক্তি অন্তত ৫ বছর গুম থাকে এবং জীবিত ফিরে না আসে, ট্রাইব্যুনাল তার সম্পত্তি বৈধ উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টনযোগ্য ঘোষণা করার ক্ষমতা পাবে। এছাড়া, গুম ব্যক্তির স্ত্রী বা নির্ভরশীল সদস্যরা আইনি প্রক্রিয়া শুরু করতে এখন থেকে কমিশনের পূর্বানুমতি নিতে বাধ্য থাকবেন না।
অধ্যাদেশটির নাম হবে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫ সংশোধনকল্পে প্রণীত অধ্যাদেশ, ২০২৬’, এবং এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
সম্পত্তি বণ্টন ও উত্তরাধিকার:
অধ্যাদেশের ২৩ ধারার সংশোধনী অনুযায়ী, ‘দ্য এভিডেন্স অ্যাক্ট, ১৮৭২’-এর ১০৮ ধারার বিধানকে অগ্রাহ্য করে, কোনো ব্যক্তি ৫ বছর নিখোঁজ থাকলে তার উত্তরাধিকারীরা সম্পত্তির জন্য ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারবেন। ট্রাইব্যুনাল আবেদন যাচাইয়ের পর সম্পত্তি বণ্টনের আদেশ দিতে পারবে। আবেদনের প্রক্রিয়া নির্ধারণের দায়িত্ব প্রাথমিকভাবে ট্রাইব্যুনালের।
মামলা পরিচালনায় পাবলিক প্রসিকিউটর:
সংশোধিত অধ্যাদেশের ১৩ ধারার মাধ্যমে বলা হয়েছে, সরকার কমিশনের সুপারিশে প্রয়োজনীয় সংখ্যক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) নিয়োগ দেবে। জরুরি পরিস্থিতিতে সরকার সরাসরি পিপি নিয়োগ দিতে পারবে বা জেলা ও মহানগর পিপি-দের অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করতে পারবে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত আইনজীবী নিয়োগের অধিকার সংরক্ষিত থাকবে।
পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষা:
নতুন অধ্যাদেশে গুম ব্যক্তির স্ত্রী ও নির্ভরশীল সদস্যদের আইনি সুরক্ষা সহজতর করা হয়েছে। মামলার জন্য কমিশনের অনুমতির বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়েছে, যদিও ট্রাইব্যুনাল চাইলে আবেদনের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য কমিশনের প্রতিবেদন তলব করতে পারবেন।
গুম হওয়া ব্যক্তির সংজ্ঞা:
সংশোধিত অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪-এ গঠিত তদন্ত কমিশনের অনুসন্ধান প্রতিবেদন বা ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) অ্যাক্ট, ১৯৭৩’-এর অধীনে দায়েরকৃত মামলায় যারা গুম হিসেবে সনাক্ত হয়েছেন এবং আদেশ প্রদানের পূর্ব পর্যন্ত জীবিত ফিরে আসেননি, তাদেরই এই আইন অনুযায়ী গুম ব্যক্তি হিসেবে ধরা হবে।