
ভেনেজুয়েলাকে অস্থিরতার পথে ঠেলে দেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক ফোনালাপে তিনি এ অনুরোধ জানান। সোমবার (৫ জানুয়ারি) মন্ত্রিসভার বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে সতর্কবার্তা দেন এরদোয়ান।
মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে এরদোয়ান বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে, আমরা এমন কোনো পদক্ষেপ সমর্থন করি না। অন্য দেশের সার্বভৌম অধিকার ক্ষুণ্ণ করা এবং আন্তর্জাতিক আইনকে পদদলিত করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ; যা বিশ্বজুড়ে গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে আমি এ বিষয়ে আমাদের দেশের সংবেদনশীলতার কথা স্পষ্টভাবে জানিয়েছি। আমি বিশেষভাবে জোর দিয়ে বলেছি যে ভেনেজুয়েলাকে যেন অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দেওয়া না হয়।’ সরাসরি কারও নাম উল্লেখ না করলেও মাদুরোকে তুলে নেওয়ার ঘটনাকে তিনি ‘দুঃখজনক’ হিসেবে আখ্যা দেন।
ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে তুরস্কের অবস্থান ব্যাখ্যা করে এরদোয়ান বলেন, ‘ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে আমাদের প্রচেষ্টা তুরস্ক ও ভেনেজুয়েলার বন্ধুত্বপূর্ণ জনগণের জন্য যা সবচেয়ে ভালো ও সঠিক, তা করার দিকেই নিবদ্ধ। প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও ভেনেজুয়েলার জনগণ বারবার প্রমাণ করেছেন যে তারা আমাদের দেশের অকৃত্রিম বন্ধু।’ তিনি জানান, তুরস্ক ভেনেজুয়েলার পাশে থাকবে এবং দেশটির স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত নভেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে তুরস্কে নির্বাসনে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। সোমবার (৫ জানুয়ারি) ভোরে ট্রাম্পের উপস্থিতিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন।
উল্লেখ্য, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের শাসনামলে তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক কিছুটা টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে গেলেও, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এরদোয়ানের সঙ্গে তার সম্পর্ক তুলনামূলকভাবে ঘনিষ্ঠ হয়েছে।
২০১৬ সাল থেকে এরদোয়ান ও মাদুরোর মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রয়েছে। ওই বছর তুরস্কে ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের পর মাদুরো নিজে ফোন করে এরদোয়ানকে সমর্থন জানিয়েছিলেন।
যদিও পুরো সপ্তাহজুড়ে তুরস্ক সরকার এ বিষয়ে তুলনামূলকভাবে নীরব ছিল, তবে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে ভেনেজুয়েলার স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন জানানো হয়। এমনকি সপ্তাহান্তে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখলেও এরদোয়ান এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করা থেকে বিরত ছিলেন।
এদিকে নিউইয়র্ক টাইমস–এর এক প্রতিবেদনে ভেনেজুয়েলার এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়েছে, দেশটিতে মার্কিন হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮০ জনে পৌঁছেছে। নিহতদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য রয়েছেন। ওই কর্মকর্তা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
‘হামলার পেছনে রয়েছে ইহুদিবাদী প্রভাব’
শনিবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস থেকে প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে তুলে নিয়ে যায়। একই সময়ে মার্কিন যুদ্ধবিমান দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ও ঘাঁটিতে বোমা হামলা চালায়।
ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ বলেন, নিকোলা মাদুরোকে তুলে নেওয়ার ঘটনায় ‘ইহুদিবাদীর প্রভাব’ রয়েছে। মাদুরোর ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রদ্রিগেজকে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট অন্তর্বর্তী নেতা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।
শনিবার টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে রদ্রিগেজ বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার স্তম্ভিত যে ভেনেজুয়েলা এ ধরনের হামলার শিকার হয়েছে। এ হামলার পেছনে নিঃসন্দেহে জায়নবাদী প্রভাব রয়েছে।’