
ভেনেজুয়েলায় মার্কিন বাহিনীর অভিযান ও প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর আটককাণ্ডের রেশ ধরে এবার ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডে তীব্র উদ্বেগ ছড়িয়েছে। বিশেষ করে খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ এবং ন্যাটোর কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা বেড়েছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) ডেনিশ সম্প্রচার মাধ্যম টিভি টু-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন সতর্ক করেন, “যুক্তরাষ্ট্র যদি গ্রিনল্যান্ড দখলের চেষ্টা করে, তবে ন্যাটোর অস্তিত্ব এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গড়ে ওঠা বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিপন্ন হবে।”
এর প্রেক্ষাপট হিসেবে দেখা যায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরো আটক হওয়ার পরপরই গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনার প্রস্তাব দিয়ে ২০ দিনের সময়সীমা উল্লেখ করেন। ট্রাম্প ফ্লোরিডা থেকে ওয়াশিংটনে ফেরার পথে সাংবাদিকদের বলেন, “২০ দিন পর আমরা গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আলোচনা করব।” তিনি বলেন, “জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন।”
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন এবং গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেনস ফ্রেডেরিক নিয়েলসেন ট্রাম্পের মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন। মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেন, আর্কটিক অঞ্চলে ডেনমার্কের সামরিক প্রস্তুতি যথেষ্ট, এবং যুক্তরাষ্ট্রের দাবি যে রাশিয়া বা চীনের জাহাজ গ্রিনল্যান্ডের আশেপাশে রয়েছে, তা বাস্তবসম্মত নয়।
গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেনস ফ্রেডেরিক নিয়েলসেন সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে জনগণকে শান্ত ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “গ্রিনল্যান্ডকে ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতির সঙ্গে মেলানো ঠিক হবে না। রাতারাতি কেউ গ্রিনল্যান্ড দখল করবে—এমন আশঙ্কা অমূলক।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, গ্রিনল্যান্ড এখনও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সংলাপের ওপরই জোর দিচ্ছে।
উল্লেখ্য, ১৯৫১ সালের প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় গ্রিনল্যান্ডে পেন্টাগনের ‘পিটুফিক স্পেস বেস’ রয়েছে, যা ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কীকরণ ও মহাকাশ নজরদারির কাজ করে। এছাড়া, গত বছর ডেনিশ পার্লামেন্ট মার্কিন সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক কর্মকর্তা কেটি মিলারের সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত মানচিত্র, যা যুক্তরাষ্ট্রের রঙে রাঙানো এবং “সুন” বা “শিগগিরই” লেখা, ন্যাটোর অখণ্ডতাকে বড় ধরনের সংকটে ফেলেছে।
সূত্র: এএফপি