
নয় দিন ধরে চলা সরকারবিরোধী আন্দোলনে উত্তাল ইরান—দিন যত গড়াচ্ছে, সহিংসতা ও প্রাণহানির চিত্র ততই ভয়াবহ হয়ে উঠছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) এক প্রতিবেদনে জানায়, বিক্ষোভ দমনে সরকারের কঠোর অভিযানের ফলে এখন পর্যন্ত এক হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে।
গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ২৯ জন বিক্ষোভকারী, ৪ জন শিশু এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ২ জন সদস্য। ইরানের ভেতরে সক্রিয় বিস্তৃত কর্মী নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, যা অতীতের বিভিন্ন অস্থিরতার সময়েও নির্ভরযোগ্য হিসেবে প্রমাণিত হয়েছিল।
এইচআরএএনএর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় আজনা, মারভদাশত ও কোরভেহ শহরে অন্তত সাতজন বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সময়ে আহত হয়েছেন অন্তত ৬৪ জন। আহতদের বেশিরভাগের শরীরে পেলেট গান ও প্লাস্টিক বুলেটের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ দাবি করেছে, বিক্ষোভ সামাল দিতে গিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ২৫০ জন পুলিশ সদস্য এবং স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী বাসিজের ৪৫ জন সদস্য আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েকটি এলাকায় সরাসরি গুলি চালানোর অভিযোগ উঠলেও দেশটির অন্তত ৮৮টি শহরের ২৫৭টির বেশি স্থানে এখনো বিক্ষোভ ও শ্রমিক ধর্মঘট অব্যাহত রয়েছে।
ইরান ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে এখন পর্যন্ত স্বাধীনভাবে ২১ জনের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির ১৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক অংশগ্রহণে বিক্ষোভ চলছে। বোজনুর্দ, কাজভিন, ইস্পাহান ও তেহরানসহ বিভিন্ন শহর থেকে শত শত শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ইন্টারনেট সংযোগে ব্যাপক বিঘ্ন এবং কড়া নিরাপত্তা বিধিনিষেধের কারণে হতাহত ও গ্রেপ্তারের প্রকৃত সংখ্যা যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে বিক্ষোভকারীরা দেয়ালে লিখে ‘মোল্লাদের কাফন না হওয়া পর্যন্ত এই দেশ কস্মিনকালেও স্বদেশ হয়ে উঠবে না’—এমন স্লোগানের মাধ্যমে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করছেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, স্বাধীন তথ্যপ্রবাহ সীমিত থাকায় নিহতের প্রকৃত সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে।
সূত্র: ফার্স নিউজ