
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে আটক করার উদাহরণ টেনে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জকে ‘তুলে আনা’ বা অপহরণের ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ। বর্তমানে রাশিয়ার সিকিউরিটি কাউন্সিলের ডেপুটি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মেদভেদেভের এ বক্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বার্লিন। জার্মান সরকারের ভাষ্য, এ ধরনের মন্তব্য উসকানিমূলক এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিপজ্জনক নজির তৈরি করতে পারে।
বার্তাসংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে ভেনেজুয়েলায় অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করেছে, সেই ধরনের অভিযান চালিয়ে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জকে ধরে নেওয়ার প্রসঙ্গ তোলায় মেদভেদেভের কড়া সমালোচনা করেছে জার্মানি।
সোমবার বার্লিনে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জার্মান সরকারের মুখপাত্র সেবাস্টিয়ান হিলে বলেন, ‘আপনারা যেমন ইচ্ছে কল্পনা করতে পারেন, আমরা এসব মন্তব্য অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে লক্ষ্য করেছি। এবং স্বাভাবিকভাবেই এ ধরনের কথা ও হুমকিকে ফেডারেল সরকার সর্বোচ্চ কঠোর ভাষায় নিন্দা জানায়।’
তিনি আরও জানান, রুশ পক্ষের এমন বক্তব্য সত্ত্বেও চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ ‘অত্যন্ত সুরক্ষিত ও নিরাপদ’ রয়েছেন।
এর আগে রোববার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত মেদভেদেভ মন্তব্য করেন, যুক্তরাষ্ট্র যে কায়দায় ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে আটক করেছে, তেমন অভিযান অন্যান্য বিশ্বনেতাদের বিরুদ্ধেও কল্পনা করা যায়। সে প্রসঙ্গে তিনি জার্মান চ্যান্সেলর মের্জের নাম উল্লেখ করেন। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা তাসকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘নব্য নাৎসি মের্জকে অপহরণ চলমান ঘটনাপ্রবাহের এই উৎসবে এক দারুণ সংযোজন হতে পারে।’
মেদভেদেভের দাবি, বিষয়টি অবাস্তব নয়। তার ভাষায়, জার্মানিতেই ফ্রিডরিখ মের্জের বিরুদ্ধে বিচারযোগ্য অভিযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, ‘তাই তাকে হারালে তেমন ক্ষতি হবে না, বরং নাগরিকদের অকারণ কষ্ট কমবে।’
উল্লেখ্য, গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করা হয় এবং পরে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হয়। বর্তমানে নিউইয়র্কে মাদক পাচারের অভিযোগে মাদুরোর বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম চলছে।
দিমিত্রি মেদভেদেভ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। তিনি ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট এবং ২০১২ থেকে ২০২০ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত দেশটির দশম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরু হয়, যা প্রায় চার বছর ধরে চলছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে এটি সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং ১৯৬২ সালের কিউবান ক্ষেপণাস্ত্র সংকটের পর মস্কো ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বড় উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ বরাবরই কঠোর অবস্থান নিয়ে আসছেন এবং প্রেসিডেন্ট পুতিনের তীব্র সমালোচক হিসেবে পরিচিত।