
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার সহযোগীদের সম্পদ তাৎক্ষণিকভাবে জব্দ করেছে সুইজারল্যান্ড সরকার। সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিবিসির এক লাইভ আপডেটে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
সুইস সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো যাতে এসব সম্পদ দেশটির সীমার বাইরে সরিয়ে নেওয়া না যায়। ভবিষ্যতে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যদি প্রমাণিত হয় যে অর্থ বা সম্পদগুলো অবৈধ উপায়ে অর্জিত, তাহলে সেগুলো ভেনেজুয়েলার জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
২০১৮ সাল থেকে ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করে আসছে সুইজারল্যান্ড। এসব নিষেধাজ্ঞার আওতায় সম্পদ জব্দের পাশাপাশি ৫৪ জন ব্যক্তির ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে।
তবে সুইজারল্যান্ডে প্রেসিডেন্ট মাদুরোর মালিকানাধীন সম্পদের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ বা ধরন এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। এর আগে ২০২১ সালে একটি সুইস পত্রিকায় ফাঁস হওয়া নথির ভিত্তিতে দাবি করা হয়, সুইস প্রসিকিউটররা প্রায় ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ অর্থ থাকা কয়েকটি ব্যাংক হিসাব শনাক্ত করেছিলেন। ধারণা করা হয়, এসব অর্থ ভেনেজুয়েলায় সরকারি তহবিল আত্মসাতের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
এরই মধ্যে ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে গেছে। গত শুক্রবার রাতে সামরিক অভিযান চালিয়ে মার্কিন বাহিনী প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে অপহরণ করে নিয়ে যায় বলে জানানো হয়।
এই ঘটনার পর রাজধানী কারাকাসসহ দেশের বিভিন্ন শহর, বন্দর ও গ্রামে চরম অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে। অধিকাংশ দোকানপাট, বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস এবং আদালত বন্ধ থাকায় জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে রোববার সকালে ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্ট দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগুয়েজকে ৯০ দিনের জন্য ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করে।
একই দিন টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো লোপেজ জানান, সেনাবাহিনী দেলসি রদ্রিগুয়েজের নেতৃত্বকে স্বীকৃতি দিয়েছে। পাশাপাশি তিনি জনগণকে আতঙ্ক কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান।