.png)
তিতাস গ্যাসের আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় ভুক্তভোগীদের চরম দুর্দশার কথা তুলে ধরেছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ড. সাহাবুদ্দিন লাল্টু। তিতাসের একটি পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সেটি চালু করতে সরকারি ৩টি দপ্তরের গড়িমসি ও অন্তত ১০০ টেবিলের ভোগান্তির বিষয়টি তিনি সামনে এনেছেন।
ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে ড. সাহাবুদ্দিন লাল্টু এসব তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে একটি ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে আমি খোঁজখবর রাখি। যেকোন প্রতিষ্ঠানের জন্য বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও অবকাঠামো প্রয়োজন। ৭ মাস আগে তিতাস গ্যাসের একটি পাইপ ইউসফুল লাইফ ফুরিয়ে যাবার কারণে ফুটা হয়ে গেছে। ফলে তারা সেই পাইপটি লক করে দিয়েছে। এতে শত শত মানুষের বাড়ী ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।
ড. সাহাবুদ্দিন লাল্টু বলেন, সেসব প্রতিষ্ঠানের একটির ব্যাপারে আমি খোঁজখবর রাখি। এই প্রতিষ্ঠানটি পূনরায় চালু করে ৫০/৬০ জন মানুষের কর্মসংস্থান পূনরুদ্ধারের জন্য তিতাস গ্যাসের বিকল্প পাইপ থেকে কানেকশন নিতে সরকারী ৩টি প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন প্রয়োজন। সে তিনটি হলো রোডস অ্যান্ড হাইওয়েজ, বিষ্ফোরক অধিদপ্তর ও তিতাস গ্যাস।
''বিগত ৭ মাস দিন রাত কাজ করেও এ তিনটি প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি আজও চালু করা সম্ভব হয়নি। এর প্রধান কারণ হলো এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের কমপক্ষে মোট ১০০টি টেবিল পার হয়ে তারপর তিনটি অনুমোদন লাভ করতে হয়। উচিত ছিল সর্বোচ্চ মোট ১০টি টেবিল থাকার। কিন্তু টেবিলের মোট সংখ্যা কমপক্ষে ১০০টি।''
তিনি বলেন, এসব টেবিল প্রধানতঃ বসানো হয়েছে ঘুষ খাওয়া আর ফাইল আটকে রেখে নিজের পদের ক্ষমতা দেখাতে। যেখানে সরকারের উচিত ছিলো দৌড়ে এসে সব রকমের সহযোগিতা দিয়ে এসব কর্মচারীর জীবিকা রক্ষা করা, সেখানে তারা ১০০টি টেবিল বসিয়ে রেখেছেন নানান রকমের অবাস্তবসম্মত নিয়ম কানুন বানিয়ে সেসবকে ব্যবহার করে মূলতঃ ঘুষ ও ক্ষমতা প্রদর্শনের মাধ্যমে জনগণের কর্মসংস্থান ধ্বংস করতে।
ড. লাল্টু বলেন, এই ১০০ টেবিলের ১০০ জন সারা জীবনে কি একজন মানুষের জন্য একটি কর্মসংস্থান বানিয়েছে? অথচ তারা সকলে মিলে সাধারণ মানুষ নিজেরা নিজেদের প্রচেষ্টায় যে কর্মসংস্থান বানিয়েছে, সেসব ধ্বংস করার জন্য বসে রয়েছে। সূতরাং এরা দেশের জন্য অভিশাপ। এই অভিশাপ থেকে আগামী দিনে ক্ষমতায় এসে কেমন করে জাতিকে মুক্ত করবেন, এটাই হবে তারেক রহমানের জন্য অনেক বড় একটি চ্যালেন্জ।