
প্রায় সাড়ে সাত বছর পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে পৌঁছেছে ভুট্টার একটি বড় চালান। প্রায় ৫৭,৮৫৫ টন ভুট্টা আমদানি করতে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৪২ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশের মুদ্রায় প্রায় ১৭৫ কোটি টাকা। এই চালানটি আমদানিতে নিয়োজিত হয়েছে তিনটি প্রতিষ্ঠান—নাহার অ্যাগ্রো গ্রুপ, প্যারাগন গ্রুপ এবং নারিশ পোলট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি লিমিটেড। এর আগে সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৩ জুলাই শ্রীপুরের এজি অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ৫৪ হাজার টন ভুট্টা আমদানির নজির রাখে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রাম বন্দরের সদরঘাট কনফিডেন্স সিমেন্ট ঘাটে চালানটির খালাস শুরু হয়।
দীর্ঘ বিরতির পর এই আমদানি উপলক্ষে কনফিডেন্স সিমেন্ট ঘাটে আয়োজন করা হয় ‘দ্য রিটার্ন অব ইউএস কর্ন টু বাংলাদেশ’ শিরোনামের এক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের অ্যাগ্রিকালচারাল অ্যাটাশে এরিন কোভার্ট।
এরিন কোভার্ট বলেন, “২০২৫-২৬ ফসল মৌসুমে উৎপাদিত এই ভুট্টা দীর্ঘ বিরতির পর আবার বাংলাদেশে এসেছে। আমরা ভুট্টার মান ও সরবরাহ ব্যবস্থার বিষয়ে নিশ্চিত।”
যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই চালান ওয়াশিংটনের ভ্যাংকুভার বন্দর থেকে পাঠানো হয়েছে। সরবরাহের ফলে বাংলাদেশে পশুখাদ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চমানের ভুট্টা ব্যবহার করে প্রাণী পুষ্টির নির্ভরযোগ্য উৎস নিশ্চিত করতে পারবে। চালান রপ্তানি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান শস্য রপ্তানিকারক ইউনাইটেড গ্রেইন করপোরেশন।
কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, চালানটি আমদানিতে টনপ্রতি খরচ হয়েছে ২৪৬ ডলার, যা একই সময়ে ব্রাজিল থেকে আমদানিকৃত ভুট্টার টনপ্রতি ২৫১-২৬০ ডলারের চেয়ে কম।
ভুট্টার চালানটি এসেছে এমভি বেলটোকিও নামের জাহাজে। বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থানরত বড় জাহাজ থেকে ধাপে ধাপে ছোট জাহাজে স্থানান্তর করা হয়। এরপর সদরঘাটের কনফিডেন্স সিমেন্ট ঘাটে আনা হয় এবং ক্রেনের মাধ্যমে ট্রাকে বোঝাই করা হয়। এরপর এই চালান দেশের বিভিন্ন আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানে পৌঁছে দেওয়া হবে।