
বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে মন্দার ধারা থেমে নেই। চলতি অর্থবছরের ডিসেম্বর মাসে রপ্তানি আয় গত বছরের একই মাসের তুলনায় ১৪ দশমিক ২৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে। মোট রপ্তানি হয়েছে ৩৯৭ কোটি ডলারেরও সামান্য কম।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে, জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত, দেশে এসেছে প্রায় দুই হাজার ৪০০ কোটি ডলারের রপ্তানি আয়। এটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ১৯ শতাংশ কম। তুলনামূলকভাবে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) রোববার প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যদিও ডিসেম্বরের রপ্তানি ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের তুলনায় কমেছে, তবে নভেম্বরের সঙ্গে তুলনায় ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ২ শতাংশ। নভেম্বরে শুরু হওয়া এই ধারা অক্টোবরের সঙ্গে তুলনায় ২ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত বছরের এই দুই মাসে রপ্তানি খুবই শক্তিশালী ছিল, তাই এখন পরিমাপ করা রপ্তানি প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক দেখাচ্ছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে রপ্তানি বৃদ্ধি হয়েছিল ১৬ শতাংশ, ডিসেম্বরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ শতাংশ।
বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও জায়ান্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক হাসান রপ্তানি পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, "অনেক কারণে রপ্তানি চিত্রের এই হতাশাজনক প্রবণতা চলছে। প্রথমত, মার্কিন পাল্টা শুল্কের কারণে বৈশ্বিক চাহিদা কমেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের প্রধান বাজার যুক্তরাষ্ট্রে পণ্যের দাম বাড়ায় ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। ফলে শুধু বাংলাদেশের নয়, অন্যান্য দেশের রপ্তানিও কমেছে। এছাড়া বাংলাদেশের রপ্তানি প্রতিযোগিতা ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। এর কিছু কারণ হলো, গত বছরের ৪ জানুয়ারি ভারত তৃতীয় দেশে রপ্তানির জন্য বাংলাদেশকে দেওয়া দীর্ঘ দিনের ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল করেছে। ফলে ভারতীয় স্থলবন্দর ব্যবহার করে বাংলাদেশ পণ্য তৃতীয় দেশে পাঠাতে পারছে না।"
তিনি আরও বলেন, "ভারত স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানি বন্ধ হওয়ায় স্বল্প লিড টাইমে উচ্চ মূল্যের পণ্য তৈরি ও রপ্তানি ব্যাহত হয়েছে। এছাড়া গ্যাস, বিদ্যুতের পুরোনো সংকট এবং শ্রমিকদের ৯ শতাংশ ইনক্রিমেন্টের কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে সক্ষমতা কমেছে। শিগগিরই রপ্তানি খাতের এই পরিস্থিতি বদলানোর আশা কম।"
ছয় মাসের রপ্তানি প্রবণতা বিশ্লেষণে দেখা যায়, আগস্টে রপ্তানি ৩ শতাংশ হ্রাস পায়। সেপ্টেম্বরেও কমেছে প্রায় ৫ শতাংশ। অক্টোবর মাসে কমেছে ৭ শতাংশ, নভেম্বরের রপ্তানি আগের অর্থবছরের একই মাসের তুলনায় ৬ শতাংশ কম। তবে জুলাইতে রপ্তানি ছিল ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি, যা উদ্যোক্তাদের আগাম প্রস্তুতি এবং মার্কিন বাজারে পাল্টা শুল্ক কার্যকর হওয়ার আগে অতিরিক্ত জাহাজীকরণের কারণে সম্ভব হয়েছে। ৩১ জুলাই মার্কিন ঘোষণার পর ৭ আগস্ট রাত ১২টা ১ মিনিটে ২০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়।
ইপিবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিসেম্বর মাসে তৈরি পোশাকের সঙ্গে সঙ্গে হিমায়িত ও জীবন্ত মাছের রপ্তানি কমেছে প্রায় ১০ শতাংশ। কৃষিপণ্যের রপ্তানি সবচেয়ে বেশি হ্রাস পেয়েছে, যা ২৮ শতাংশ।