দীর্ঘ ১৯ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে শুরু হয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। সংকট কাটিয়ে নতুন দিনের সম্ভাবনায় উদ্দীপ্ত শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ৯ টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিরতিহীনভাবে বিকেল ৩ টা পর্যন্ত চলবে এ ভোটগ্রহণ।
ভোট শুরুর আগেই সকাল থেকে কেন্দ্রগুলোর সামনে ভোটারদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। ইতিহাসের প্রথম জকসু নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরে শিক্ষার্থীদের মাঝে উৎসবমুখর ও উদ্দীপনাময় পরিবেশ বিরাজ করছে।
ভোটকেন্দ্র ও ভোটার সংখ্যা
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, জকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে মোট ৩৯ টি ভোটকেন্দ্রে ১৭৮ টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতি ১০০ জন ভোটারের জন্য একটি করে বুথ নির্ধারণ করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সংসদ ও হল সংসদ মিলিয়ে মোট ১৬ হাজার ৬৪৫ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন ওএমআর শিটে। ভোটগ্রহণ শেষে মেশিনের মাধ্যমে ভোট গণনা করা হবে এবং ভোট গণনা সরাসরি এলইডি স্ক্রীনে দেখানো হবে। ফলাফল ঘোষণা করা হবে ৬ অথবা ৭ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে।
প্রার্থী ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা
প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত জকসু নির্বাচনে কেন্দ্রীয় সংসদের ২১টি পদ ও হল সংসদের ১৩টি পদে নির্বাচন হচ্ছে। মোট ৩৪টি পদের বিপরীতে ১৮৫ জন প্রার্থী মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। শেষ মুহুর্তে ১৯০ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪ জন নিজেদের সরিয়ে নিলেও নিয়মানুযায়ী ব্যালটে তাদের নাম ও ব্যালট নম্বর থাকবে। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় সংসদে প্রার্থী ১৫৭ জন এবং হল সংসদে ৩৩ জন। কেন্দ্রীয় সংসদে সবচেয়ে বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা গেছে কার্যনির্বাহী সদস্য পদে যেখানে ৭টি পদের বিপরীতে লড়ছেন মোট ৫৭ জন প্রার্থী।
জকসুতে উল্লেখযোগ্য প্যানেল
জকসু নির্বাচনে চারটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এর মধ্যে রয়েছে—
ছাত্রদল–ছাত্র অধিকার পরিষদ সমর্থিত প্যানেল ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’, ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’, বামপন্থী ও সামাজিক–সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর ‘মওলানা ভাসানী ব্রিগেড’এবং ছাত্রশক্তি সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান’। এছাড়াও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা
নির্বাচনকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রক্টর অধ্যাপক ড. তাজাম্মুল ইসলাম জানান, তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। পুলিশ, সেনাবাহিনী ও র্যাব সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে।
প্রতিটি কেন্দ্রে সহকারী প্রক্টর, অতিরিক্ত প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্য এবং প্রায় ২০০ জন স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত রয়েছেন, যাতে ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।
পুরো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সিসিটিভির আওতায় রয়েছে এবং প্রতিটি ভোটকেন্দ্রেও আলাদাভাবে সিসিটিভি স্থাপন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এছাড়া নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে তিনটি ডিজিটাল বোর্ডের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভ সম্প্রচারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা
প্রথমবারের মতো শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা একটি কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও প্রতিনিধিত্বশীল সংসদ প্রত্যাশা করছেন। আবাসন সংকট, পরিবহন সমস্যা, একাডেমিক পরিবেশ, ক্যাম্পাস নিরাপত্তা ও শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় জকসুর কার্যকর ভূমিকা দেখার আশা তাদের।