
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রশাসন টালবাহানা শুরু করছেন বলে অভিযোগ করেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) এর শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের দাবি, ছাত্র সংসদ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার আশ্বস্ত করা হলেও বাস্তবে কোনো অগ্রগতি দৃশ্যমান দেখা যায়নি। শিক্ষার্থীরা আরো বলেন, বর্তমান উপাচার্য নির্বাচনের কথা বলে অনেকটা ‘মূলা ঝুলিয়ে’ রাখার মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছেন যাতে শিক্ষার্থীরা শান্ত থাকে।
এ বিষয়ে ইনকিলাব মঞ্চ ববি শাখার সদস্য সচিব ইফতেখার সায়েম বলেন, “আমরা এই বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়কে ফ্যাসিস্ট হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয় বলেই মনে করি। এই কার্যালয় ফ্যাসিবাদবিরোধী শিক্ষার্থীদের ম্যান্ডেটকে গুরুত্ব না দিয়ে বাকসু নিয়ে তালবাহানা করাটা অনুমেয় ছিল। কারণ যদি বাকসু হয় তাদের পুরোনো সেটআপ তাসের ঘরের মতো ভেঙে যাবে। তাদের রাজনৈতিক ও আদর্শিক জায়গায় ভাটা ও অমাবস্যা আসতে পারে, তাই তারা বাকসু হোক এটা কখনোই চায় না। তাই এই বিষয়ে আমরা বিপ্লবের মাধ্যমে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।”
ববি ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, “বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ প্রয়োজন, কারণ এটি শিক্ষার্থীদের অধিকার ও দাবি কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরার গণতান্ত্রিক মাধ্যম। এটি নেতৃত্বগুণ বিকাশ, মতপ্রকাশের সুযোগ ও শিক্ষার্থী-প্রশাসনের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে। কিন্তু বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি মহোদয় শিক্ষার্থীদেরকে শুধু আশার বাণি শুনিয়ে শান্তনা দিয়ে রাখছেন।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ড. তৌফিক আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের দায়ী করে বলেন, “এই নির্বাচনটা পিছানোর পিছনে সাংবাদিকরা দায়ী। বাকসু নিয়ে যখন কথা হয়েছিলো, তখন বিএম কলেজের পক্ষ থেকে এই ‘বাকসু’ নাম নিয়ে বিরোধিতা হয়েছিলো। তখন আপনারা সাংবাদিকরা এটা নিয়ে লেখা-লেখি করছেন, যেটা উপর মহলের নজরে গিয়েছে। তাই তারা আশঙ্কা করছে, এখানে ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিলে ঝামেলা হতে পারে। তবে একটু দেরি হলেও হবে ছাত্র সংসদ নির্বাচন।”