
তেহরান ও ওয়াশিংটনের টানাপোড়েন যখন চরমে, তখন যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের জবাবে সঙ্গে সঙ্গেই কঠোর প্রতিক্রিয়ার ঘোষণা দিল ইরানের সেনাবাহিনী। বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে এ সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া।
তিনি বলেন, ‘শত্রু যদি আবারও বোকামি করে ভুল হিসাব করে, তবে তার জবাব দেয়া হবে তাৎক্ষণিকভাবে, কোনো বিলম্ব ছাড়াই।’ সম্ভাব্য মার্কিন হামলার হুমকি এবং পারস্য উপসাগরের কাছাকাছি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বহর মোতায়েনের প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্য আসে।
আকরামিনিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই এ অঞ্চলে একটি নির্দিষ্ট কৌশল অনুসরণ করছে। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি একটি স্পষ্ট ধারা অনুসরণ করে আসছে, যার মধ্যে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা, সাংস্কৃতিক আগ্রাসন এবং ইরানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ।’ এ পরিস্থিতিকে তিনি হাইব্রিড যুদ্ধের অংশ হিসেবে বর্ণনা করেন।
গত বছরের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘর্ষের উদাহরণ টেনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যায়নকে ভুল আখ্যা দেন। আকরামিনিয়া বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সক্ষমতা সম্পর্কে ভুল মূল্যায়ন করেছিল। বিশ্ব দেখেছে, জায়নবাদী শাসনের সামরিক হামলার জবাবে আমরা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছি। অস্থিরতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়নি, বরং জাতীয় ঐক্য আরও দৃঢ় হয়েছে এবং আমেরিকানরা তাদের জবাব পেয়েছে।’
ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে আরও কড়া বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে কোনো হামলা হলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সঙ্গে সঙ্গে এবং বাস্তব সময়েই জবাব দেবে। ১২ দিনের যুদ্ধ আমাদের শিখিয়েছে, শত্রুকে সময় দেয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনার মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।’
গানবোট কূটনীতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে ইরানি সেনা মুখপাত্র বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ১৮ ও ১৯ শতকের মতো “গানবোট কূটনীতি” অনুসরণ করছে এবং চাপ প্রয়োগ করে ছাড় আদায়ের চেষ্টা করছে। তারা শূন্য মাত্রার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার ওপর বিধিনিষেধ চায়।’
মার্কিন হামলার সম্ভাবনা একেবারে নাকচ না করে আকরামিনিয়া সতর্ক করে বলেন, ‘ইরানের জবাব যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কাম্য নাও হতে পারে। এই অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো আধা-ভারী অস্ত্র, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় রয়েছে এবং সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে পুরো অঞ্চলই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের পাল্লায় থাকবে।’
তিনি আরও জানান, ইরানের সামরিক প্রস্তুতি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। তাঁর ভাষায়, ‘গত বছরের যুদ্ধ থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মেরামত বা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, নতুন ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে এবং বিমানবাহিনীতে নতুন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। স্থল, নৌ ও বিমানবাহিনী সবই এখন উচ্চ মাত্রার প্রস্তুতিতে রয়েছে।’
পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহরের উপস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আধুনিক যুদ্ধে যুদ্ধজাহাজ গুরুত্বপূর্ণ হলেও সামরিক শক্তি কেবল নৌবহরেই সীমাবদ্ধ নয়। এই এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ারগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার কাছে ঝুঁকিপূর্ণ।’
সূত্র: আনাদোলু