
তৃণমূলের মতামত উপেক্ষা করে সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী চূড়ান্ত করা এবং দলীয় নেতাকর্মীদের বহিষ্কারের অভিযোগ তুলে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিবসহ বিভিন্ন ইউনিটের ২১ জন নেতাকর্মী পদত্যাগ করেছেন। একই সঙ্গে নীতিগতভাবে আরও শতাধিক নেতাকর্মী পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তারা।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার রসুলপুর খেয়াঘাট সংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগের ঘোষণা দেন সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীরা। তবে দলের প্রয়োজনে ভবিষ্যতে যে কোনো সময় তারা বিএনপিতে ফিরে আসতে পারেন বলেও জানান তারা।
পদত্যাগকারীদের তালিকায় রয়েছেন গজারিয়া উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রহমান শফিক, ভবেরচর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিক শিকদার, বালুয়াকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক বোরহান উদ্দিন ভূঁইয়া, গজারিয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক স্বপন সরকার, বাউশিয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক হাসমত আলী তাঁতী, ইমামপুর ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আমিরুল ইসলাম, টেংগারচর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক গিয়াসউদ্দিন, সদস্যসচিব এম.এ. হানিফ, হোসেন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব জাহাঙ্গীর মাতুব্বর, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক মকবুল আহমেদ রতন এবং উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ওহিদুজ্জামান ওহিদসহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা।
সংবাদ সম্মেলনে আব্দুর রহমান শফিক বলেন, ‘তৃণমূলের মতামত উপেক্ষা করে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগে কোনো শোকজ বা পূর্ব নোটিশ ছাড়াই নেতাকর্মীদের বহিষ্কার করা হচ্ছে। এর প্রতিবাদেই আমরা ২১ জন পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। নীতিগতভাবে আরও শতাধিক নেতাকর্মী পদত্যাগ করবেন।’
ভবেরচর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক শফিক শিকদার আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘বিএনপির দলীয় প্রার্থীর মনোনয়ন সঠিক হয়নি। তৃণমূলে তুমুল জনপ্রিয় মো. মহিউদ্দিনকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। আন্দোলন-সংগ্রামের মাঠে দীর্ঘ ১৭ বছর তিনি আমাদের পাশে ছিলেন। বিপদের সময় যাকে পাশে পেয়েছি, তাকে আমরা কীভাবে ছেড়ে যাই? তাই আমরা স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিউদ্দিনের পক্ষেই নির্বাচন করতে চাই।’
উল্লেখ্য, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন। এই আসনে মনোনয়ন দৌড়ে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জেলা বিএনপির সদ্য বহিষ্কৃত সদস্যসচিব মো. মহিউদ্দিন। প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলনের পর তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগে জেলা ও উপজেলা বিএনপির একাধিক নেতাকর্মীকে কেন্দ্রীয় বিএনপি বহিষ্কার করেছে।