
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার আবহে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা আরও জোরালো করল ইরান। দেশটির সেনাবাহিনীতে এক হাজার নতুন ড্রোন যুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে যেকোনো হামলার মুখে পড়লে কঠোর ও ধ্বংসাত্মক জবাব দেওয়ার সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইরানের সেনাপ্রধান। বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে এ তথ্য প্রকাশিত হয়।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্র যখন মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় একটি নৌবহর মোতায়েন করেছে, ঠিক সেই প্রেক্ষাপটেই এই সামরিক পদক্ষেপ নেয় তেহরান।
ইরানের সেনাবাহিনীর প্রধান আমির হাতামি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, “আমরা যে ধরনের হুমকির মুখে আছি, তার আলোকে দ্রুত যুদ্ধক্ষমতা বজায় রাখা এবং যেকোনো আগ্রাসনের জবাবে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো আমাদের সেনাবাহিনীর প্রধান লক্ষ্য।”
তিনি আরও বলেন, “কৌশলগত সক্ষমতা ধরে রাখা ও শক্তিশালী করা সব সময়ই ইরান সেনাবাহিনীর কর্মসূচির অংশ।”
এর আগে একই ধরনের কড়া বার্তা দেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। বুধবার ২৮ জানুয়ারি স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, যে কোনো আগ্রাসনের জবাবে ইরান প্রস্তুত রয়েছে।
ওই পোস্টে আরাঘচি লেখেন, “প্রিয় ভূমি, আকাশ ও সমুদ্রের বিরুদ্ধে যে কোনো আগ্রাসনের জবাবে তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া জানাতে আমাদের সাহসী সশস্ত্র বাহিনী ট্রিগারে আঙুল রেখে প্রস্তুত। যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আগ্রাসন চালায়, তাহলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালী জবাব দেবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “গত বছরের জুনে ইসরায়েলের কয়েক দিনব্যাপী সামরিক হামলা ও একই সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার মধ্য দিয়ে তেহরান গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। ১২ দিনের যুদ্ধ থেকে পাওয়া মূল্যবান অভিজ্ঞতা আমাদের আরও শক্তিশালী, দ্রুত ও গভীরভাবে প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতা দিয়েছে।”
আরাঘচির এই মন্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে ইরানের কঠোর অবস্থানের কারণে ওয়াশিংটনের চাপও বাড়ছে তেহরানের ওপর।
সূত্র: এএফপি