
মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে টানা দুই ওয়ানডে সিরিজ জিতে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। পাকিস্তানের পর এবার নিউজিল্যান্ডকে ঘরের মাঠে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে ধারাবাহিক সাফল্যের ধারায় নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করল টাইগাররা।
চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডেতে আগে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ২৬৫ রান তোলে বাংলাদেশ। ইনিংস গড়ার পথে নাজমুল হোসেন শান্তর সেঞ্চুরি এবং লিটন দাসের ৭৬ রানের ইনিংস দলকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সংগ্রহ এনে দেয়।
টার্গেট তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে নিউজিল্যান্ড। ইনিংসের শুরুতে দ্রুত উইকেট হারিয়ে ব্যাটিং লাইনআপ ছন্দ হারায় সফরকারীরা। মাঝের ওভারগুলোতেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে তারা, ফলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি চলে যায় বাংলাদেশের হাতে।
নিউজিল্যান্ডের হয়ে একমাত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন নিক কেলি। ওপেনিংয়ে নেমে ৮০ বলে ৫৯ রানের ইনিংস খেলেন তিনি, যেখানে ছিল ৬টি চার ও একটি ছক্কা। তবে তার বিদায়ের পর আর বড় কোনো জুটি গড়ে উঠতে পারেনি সফরকারীদের ইনিংসে।
বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখেন মোস্তাফিজুর রহমান। চোট কাটিয়ে দলে ফিরে মাত্র ৯ ওভারে ৪৩ রানে ৫ উইকেট নিয়ে তিনি নিউজিল্যান্ড ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। তার নিয়ন্ত্রিত লাইন, স্লোয়ার এবং ভ্যারিয়েশন প্রতিপক্ষকে বারবার চাপে ফেলে।
নিয়মিত উইকেট হারাতে হারাতে ৪৪.৫ ওভারে ২১০ রানে অলআউট হয় নিউজিল্যান্ড। ফলে ৫৫ রানের জয়ে সিরিজ নিশ্চিত করে বাংলাদেশ, আর ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নেয় মেহেদী হাসান মিরাজের দল।
এই জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ শুধু সিরিজ জয়ই নিশ্চিত করেনি, বরং ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার পথে গুরুত্বপূর্ণ এক ধাপ এগিয়ে গেছে। আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ আটে জায়গা ধরে রাখাই এখন তাদের সামনে প্রধান লক্ষ্য।
সব মিলিয়ে, পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টানা দুই সিরিজ জয় বাংলাদেশের সাম্প্রতিক উন্নতির ধারাকেই আরও দৃঢ়ভাবে সামনে নিয়ে এসেছে, যেখানে দলীয় পারফরম্যান্স, বোলিং গভীরতা এবং চাপ সামলানোর সক্ষমতা বড় ভূমিকা রাখছে।