
ক্রিকেটারদের জীবনে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা দীর্ঘ পথচলার ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয় এক নিমিষেই। অপেক্ষা, অনিশ্চয়তা আর চুপচাপ লড়াইয়ের পর হঠাৎ পাওয়া একটি খবর বদলে দেয় সব অনুভূতির রং।
ঠিক তেমনই এক মুহূর্তের মুখোমুখি হয়েছেন পেস বোলিং অলরাউন্ডার আব্দুল গাফফার সাকলাইন। প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে ডাক পেয়ে উচ্ছ্বাস আর দায়িত্ববোধ মিলেমিশে এক নতুন বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। ২৮ বছর বয়সে পাওয়া এই সুযোগটিকে তিনি নিজের জন্য বড় এক প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন, যেখানে লক্ষ্য একটাই, লাল-সবুজের জার্সিতে নিজের সেরাটা তুলে ধরা।
এই সুযোগটা এসেছে এমন এক সময়ে, যখন দলের নিয়মিত কয়েকজন পেসার বিশ্রামে রয়েছেন। সেই জায়গাটাকেই নিজের জন্য সম্ভাবনার দরজা হিসেবে দেখছেন সাকলাইন। টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক লিটন দাস ফোন করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, যা তার জন্য বিশেষ এক প্রেরণা হয়ে উঠেছে।
রাজশাহীতে ঘরোয়া ক্রিকেটের ম্যাচ নিয়ে ব্যস্ত সময়েই তিনি জানতে পারেন জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্তির খবর। হঠাৎ পাওয়া সেই বার্তাই যেন তার ক্রিকেটজীবনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে দেয়। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের প্রচলিত পথে না হেঁটে টেপ টেনিস দিয়ে শুরু করা এই যাত্রা ধীরে ধীরে পেশাদার ক্রিকেটে জায়গা করে নিয়েছে, আর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সই তাকে এনে দিয়েছে এই দরজা খোলার সুযোগ।
ঘরোয়া আসরে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স, বিশেষ করে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে নিজের সামর্থ্য দেখানোর পরই নির্বাচকদের নজরে আসেন তিনি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচের দলে জায়গা পাওয়া তাই কেবল সুযোগ নয়, দীর্ঘ সময়ের পরিশ্রমের স্বীকৃতি হিসেবেও দেখছেন সাকলাইন।
দলে জায়গা পাওয়ার খবরের পর পরিবারের প্রতিক্রিয়াও তার জন্য আবেগের জায়গা তৈরি করেছে। ব্যক্তিগত জীবনের কিছু কঠিন সময় পার করে আসা এই ক্রিকেটারকে তার মা সংযত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন, যেন সুযোগটিকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো যায়।
তিনি বলেন, ‘জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া আমার জন্য আল্লাহর আশীর্বাদ।’
আরও যোগ করেন, ‘আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব ভালো পারফর্ম করার।’
বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে আগেই আন্তর্জাতিক মঞ্চের কাছাকাছি অভিজ্ঞতা হয়েছে তার। উত্তরবঙ্গের সৈয়দপুর থেকে উঠে আসা এই ক্রিকেটার বোলিংয়ের পাশাপাশি দ্রুত রান তোলার সামর্থ্যও রাখেন, যা তাকে দলে আলাদা করে তুলে ধরতে পারে।
অভিষেক ম্যাচকে স্মরণীয় করে রাখার স্বপ্নও লুকিয়ে নেই তার কথায়। বড় মঞ্চে নিজের জায়গা তৈরি করার এই সুযোগকে তিনি চ্যালেঞ্জ হিসেবেই নিচ্ছেন।
সাবেক এক নির্বাচক মনে করেন, সাকলাইনদের মতো তরুণদের সুযোগ দেওয়া ভবিষ্যতের কথা ভেবেই নেওয়া সিদ্ধান্ত। তার মতে, সামনের বড় আসরগুলোর আগে পেস আক্রমণ শক্তিশালী করতে নতুনদের পরীক্ষা করার বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, ‘এই ধরনের সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী।’
সব মিলিয়ে সাকলাইনের গল্পটা এখন শুধু একটি ডাক পাওয়ার নয়, বরং অপেক্ষা থেকে সুযোগে পৌঁছানোর। সামনে কী আছে, তা সময়ই বলবে, তবে এই মুহূর্তে তার চোখে স্পষ্ট একটাই লক্ষ্য, পাওয়া সুযোগটিকে নিজের করে নেওয়া।