চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আজকের সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে ব্যাটিং-বোলিংয়ের পাশাপাশি ফিল্ডিংই আজ বড় পার্থক্য গড়ে দিচ্ছে। একের পর এক দৃষ্টিনন্দন ক্যাচ আর তীক্ষ্ণ গ্রাউন্ড ফিল্ডিংয়ে প্রতিপক্ষকে বারবার চাপে ফেলেছে বাংলাদেশ, যেখানে মেহেদী হাসান মিরাজের একটি অবিশ্বাস্য ক্যাচ ম্যাচের অন্যতম হাইলাইট হয়ে উঠেছে।
৩৬ ওভারে মোস্তাফিজুর রহমানের ১০৯.৮ কিলোমিটার গতির স্লোয়ারে শর্ট মিড উইকেটে ফ্লিক করতে গিয়ে অধিনায়ক মিরাজের দারুণ এক ক্যাচে স্মিথ আউট হন। সেই মুহূর্তে ডানদিকে সম্পূর্ণ ঝাঁপিয়ে পড়ে অসাধারণ এক ক্যাচ নেন মিরাজ। তার এই অ্যাথলেটিক ফিল্ডিংকে ম্যাচের প্রেক্ষাপটে ‘সুপারম্যান ক্যাচ’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শুধু এই একটি মুহূর্তই নয়, পুরো ইনিংসজুড়ে বাংলাদেশের ফিল্ডিং ছিল ধারালো ও সংগঠিত। ইনিংসের শুরুতেই তিনটি উইকেট আসে ক্যাচের মাধ্যমে, যেখানে বোলারদের সঠিক লাইন-লেন্থের সঙ্গে ফিল্ডারদের প্রস্তুত অবস্থান বড় ভূমিকা রাখে। এরপর মিরাজের এই বিস্ময়কর ক্যাচ ম্যাচে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ আরও দৃঢ় করে।
ঠিক এর পরপরই আবার মোস্তাফিজুর রহমানের বলে তাওহিদ হৃদয়ের চটজলদি রিফ্লেক্স ক্যাচে ফেরেন লেনক্স। এই ধারাবাহিক ফিল্ডিং চাপ নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপকে বারবার থমকে দেয়, ফলে তারা কোনো বড় জুটি গড়তে পারেনি।
এর বাইরে আউটফিল্ডেও বাংলাদেশের ফিল্ডাররা বেশ কয়েকটি নিশ্চিত বাউন্ডারি রুখে দিয়েছে। ডিপে দৌড়ে গিয়ে বল থামানো, দ্রুত থ্রো এবং সঠিক ব্যাকআপ মিলিয়ে অন্তত ১৫ থেকে ২০ রান সরাসরি বাঁচিয়ে দিয়েছে দলটি।
এই ম্যাচে তাই শুধু বোলিং বা ব্যাটিং নয়, ফিল্ডিংও আলাদা করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। একদিকে নিয়ন্ত্রিত পেস আক্রমণ, অন্যদিকে নিখুঁত ক্যাচিং আর গ্রাউন্ড ফিল্ডিং মিলিয়ে নিউজিল্যান্ডকে ক্রমাগত চাপে রেখেছে বাংলাদেশ।
সব মিলিয়ে বলা যায়, মিরাজের ‘সুপারম্যান ক্যাচ’ শুধু একটি মুহূর্ত নয়, বরং আজকের ম্যাচে বাংলাদেশের ফিল্ডিং উৎকর্ষতার প্রতীক হয়ে উঠেছে, যা পুরো ইনিংসের গতিপথই বদলে দিয়েছে।