
ইরানে চলমান বিশাল বিক্ষোভ ও অস্থিরতার মধ্যেও দেশটির পরিস্থিতি এখন “সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে” রয়েছে বলে দাবি করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) তেহরানে নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আরাঘচি জানান, গত সপ্তাহান্তে বিক্ষোভের সময় সহিংসতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেলেও বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, দেশব্যাপী এই আন্দোলনকে পরিকল্পিতভাবে রক্তাক্ত ও সহিংস আকার দেওয়া হয়েছে, যাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে সামরিক হস্তক্ষেপের “অজুহাত” তৈরি করতে পারেন।
আরাঘচি বৈঠকে বলেন, “আমরা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত, তবে সংলাপের পথও খোলা রেখেছি।” তিনি আরও জানান, দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত সারা দেশে ইন্টারনেট পরিষেবা পুনঃস্থাপনের কাজ চলছে। বিশেষ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দূতাবাস ও সরকারি মন্ত্রণালয়গুলোতে খুব শিগগিরই সংযোগ ফিরিয়ে আনা হবে।
এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দমনে ইরান সরকার কয়েক দিন ধরে দেশজুড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন রেখেছিল।
এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সরাসরি উল্লেখ না করে ইতিহাসের কুখ্যাত স্বৈরশাসকদের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি লিখেছেন, “যিনি দম্ভের সঙ্গে সারা বিশ্বকে বিচার করছেন, তারও পতন অনিবার্য।” খামেনির এই মন্তব্য ট্রাম্পের “গ্রেট ইরান” উদ্যোগের বিপরীতে তেহরানের অনমনীয় অবস্থানকে প্রতিফলিত করছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ইতিমধ্যেই ৫০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং কয়েক হাজার বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে আরাঘচির বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তেহরান আন্তর্জাতিক মহলে দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদিও তেহরানের রাস্তাঘাট এখন শান্ত, মার্কিন চাপ ও কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে ইরান যুদ্ধ ও সংলাপ উভয় কৌশলই প্রয়োগ করছে, যা ভবিষ্যতের জন্য নতুন এক স্নায়ুযুদ্ধের ইঙ্গিত দিচ্ছে।