
ইরানের চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যে তেহরান ও ওয়াশিংটনের সম্পর্ক চরম উত্তেজনার মুখে। এ অবস্থার মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে একটি বিতর্কিত কার্টুন প্রকাশ করেছেন।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) খামেনির আনুষ্ঠানিক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত কার্টুনে ট্রাম্পকে প্রাচীন মিশরের মমি সংরক্ষণের কফিন বা সারকোফ্যাগাসের মধ্যে একটি ভঙ্গুর মূর্তি হিসেবে দেখানো হয়েছে। ছবিতে পটভূমিতে পিরামিড এবং দেয়ালে প্রাচীন মিশরীয় হায়রোগ্লিফিক্সও দৃশ্যমান।
ছবির সঙ্গে দেওয়া বার্তায় খামেনি ট্রাম্পকে ইতিহাসের অত্যাচারী শাসক ফেরাউন এবং নমরুদের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি সতর্ক করেছেন যে, তাদের মতোই ট্রাম্পের পতন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
খামেনির পোস্টে আরও বলা হয়েছে, ফেরাউন, নমরুদ এবং ইরানের পাহলভি রাজবংশের রেজা শাহ ও মোহাম্মদ রেজার মতো স্বৈরাচারীদের তাদের শাসনের শীর্ষ অবস্থান থেকে উৎখাত করা হয়েছিল। “বর্তমান বিশ্বের অহমিকার সঙ্গে যারা বিচার করছেন, তাদেরও একই পরিণতি হবে,” বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এই প্রতীকী বার্তাটি মূলত ট্রাম্পের আগের উসকানিমূলক বক্তব্যের জবাব হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে তিনি ইরানের জনগণের মুক্তির জন্য প্রয়োজনে সেনা প্রেরণের কথা বলেছিলেন। গত ১৬ দিন ধরে চলা বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে, দাবি করেছে মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ, যা তেহরানের ওপর পশ্চিমা বিশ্বকে ক্ষুব্ধ করেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত বিকল্প বিবেচনা করছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের বলেন, ইরানের নেতারা আলোচনার জন্য ফোন করলেও বৈঠকের আগে যুক্তরাষ্ট্রকে পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।
পরিকল্পিত পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে সাইবার হামলা, কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং সরাসরি সামরিক অভিযান। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে সাইবার অস্ত্র ব্যবহার বা অনলাইনে সরকারবিরোধী উৎসগুলোকে শক্তিশালী করার বিষয়েও ভাবনা চলছে।
তেহরান ইতিমধ্যেই সতর্ক করেছে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা করলে তারা পাল্টা আঘাত হানবে। খামেনির সর্বশেষ কার্টুন পোস্ট দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে এক চূড়ান্ত অস্থিতিশীল পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের ‘গ্রেট ইরান’ গড়ার আহ্বান এবং খামেনির উসকানিমূলক জবাব মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, তেহরানের এই সরাসরি উসকানির জবাবে ট্রাম্প প্রশাসন কী ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখাবে।
সূত্র: বিবিসি