
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার মামলায় গ্রেপ্তার অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকা পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও সংগীতশিল্পী প্রলয় চাকী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও সংগীতশিল্পী প্রলয় চাকী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
রোববার (১১ জানুয়ারি) রাত সোয়া ৯টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। পাবনা জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. ওমর ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কারা কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর সকালে পাবনা শহরের পাথরতলা এলাকার নিজ বাসা থেকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) প্রলয় চাকীকে আটক করে। পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
এরপর গত শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকালে তিনি হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হন। দ্রুত তাঁকে চিকিৎসার জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। অবশেষে রোববার রাতে রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এ প্রসঙ্গে জেল সুপার মো. ওমর ফারুক বলেন, “উনি ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিলেন। শুক্রবার সকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে তখনই তাকে রামেক হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। পরে সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন তিনি।”
তবে প্রলয় চাকীর ছেলে সানী চাকী অভিযোগ করে বলেন, হার্ট অ্যাটাকের রোগী হওয়া সত্ত্বেও তাঁর বাবাকে সিসিইউতে না রেখে প্রিজন সেলে রাখা হয়েছিল। সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পাওয়ায় তাঁর অবস্থার অবনতি ঘটে।
তিনি আরও বলেন, “অসুস্থতার বিষয়ে পরিবারকেও কিছু জানায়নি কারা কর্তৃপক্ষ। অবহেলায় তার মৃত্যু হয়েছে।”
এদিকে প্রলয় চাকীর ভাই মলয় চাকী জানান, তাঁর ভাইয়ের মৃত্যুতে সংগীতশিল্পী তপন চৌধুরী, কুমার বিশ্বজিৎ, দিনাত জাহান মুন্নী, বাপ্পা মজুমদার ও কবির বকুলসহ অনেকে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
পরিবারের আনা অবহেলার অভিযোগ প্রসঙ্গে জেল সুপার ওমর ফারুক বলেন, “এ ধরনের কোনো বিষয় নেই। উনি আগে থেকে অসুস্থ ছিলেন।”