
ইরানে চলমান অস্থিরতা ও ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে অস্ট্রেলিয়া সরকার দেশটিতে অবস্থানরত নাগরিকদের অবিলম্বে ইরান ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা নতুন ভ্রমণ নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বাণিজ্যিকভাবে দেশ ছাড়ার সুযোগ এখনও থাকলেও তা সীমিত হয়ে আসছে। ক্যানবেরা সতর্ক করেছে, যে কোনো মুহূর্তে আকাশসীমা বন্ধ বা ফ্লাইট বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যার ফলে পরবর্তীতে দেশ ত্যাগ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে।
পররাষ্ট্র দপ্তর নাগরিকদের সতর্ক করে জানিয়েছে, যারা এই পরামর্শ উপেক্ষা করে ইরানে অবস্থান করবেন, তাদের নিরাপত্তার পুরো দায়িত্ব নিজেকেই নিতে হবে। নাগরিকদের পর্যাপ্ত পানি, শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় ওষুধের মজুত নিশ্চিত করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবাদে শুরু হওয়া আন্দোলন দ্রুত ভিন্ন আকারে সরকারবিরোধী গণবিক্ষোভে রূপ নিয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ দিনে নিহতের সংখ্যা ৫ শতাধিক ছাড়িয়ে গেছে এবং কয়েক হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইরান সরকার এখন পর্যন্ত নিহতের আনুষ্ঠানিক সংখ্যা প্রকাশ করেনি, পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় ইন্টারনেট ও যোগাযোগ পরিষেবা বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রশাসন সতর্ক করেছে, বিক্ষোভ যে কোনো সময় আরও সহিংস রূপ নিতে পারে এবং তাতে সাধারণ যাতায়াত ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি বিদেশি নাগরিকদের জন্য ক্রমেই বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। অস্ট্রেলিয়ার এই সতর্কতার ফলে ইরানের সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপড়েন আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যান্য দেশও তাদের নাগরিকদের জন্য একই ধরনের সতর্কতা জারি করার বিষয়টি বিবেচনা করছে।
সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল