
লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুরে চতুর্থ শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে যৌন হয়রানি করার অভিযোগে মামলায় চার মাস পলাতক থাকার পর আবদুর রহিম নামের বেগম রোকেয়া স্কুলের প্রধান শিক্ষককে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তি ওয়ার্ড শাখা জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক।
রবিবার (১১ জানুয়ারি) যৌন হয়রানির মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গেলে তাকে নারী ও শিশু আদালতের বিচারক সাদেকুর রহমান কারাগারে প্রেরণ করেন ।
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিম (৪০) উপজেলার চরমোহনা ইউপির চরমোহড়া গ্রামের মৃত সেকান্তর বেপারীর সন্তান ।
এছাড়া তিনি রায়পুর ইউপির চালতাতুলি এলাকার বেগম রোকেয়া স্কুলের প্রধান শিক্ষক। তিনি বিবাহিত এবং দ্বিতীয় স্ত্রীসহ দুই সন্তান রয়েছে।
তথ্যে জানা যায়, গত বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৪টার দিকে ১০নং রায়পুর ইউপি উত্তর রায়পুর গ্রামে প্রধান শিক্ষক তার বাসায় তারই বিদ্যালয়ে শিশুছাত্রীকে যৌন হয়রানি করেন। পরে রাতেই ওই স্কুলছাত্রীর মা বাদী হয়ে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় যৌন নিপীড়নের মামলা করেন।
পুলিশ ও এলাকাবাসীর বরাত জানা যায়, ওইদিন বিকালে প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিম তার কক্ষে ওই ছাত্রীসহ তার ভাইকে প্রাইভেট পড়াচ্ছিলেন। প্রাইভেটের মাঝখানে ভাইকে দোকান থেকে চিপস আনতে পাঠিয়ে ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করেন। পরে ছাত্রীটি বাড়িতে গিয়ে কান্নাকাটি করে এবং মায়ের কাছে বিষয়টি খুলে বলে। ঘটনাটি তার মা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানিয়ে বিচার চান এবং রাতে রায়পুর থানায় প্রধান শিক্ষককে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।
এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিম মুঠোফোনে গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, শিক্ষার্থীর পরিবারের সঙ্গে আমাদের পূর্বের পারিবারিক বিরোধ রয়েছে। আমি স্থানীয় কয়েকজন লোকেদের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছি,আমি নির্দোষ।
অপরদিকে আবদুর রহিমের স্ত্রী দাবি করে বলেন, আমার স্বামী এ রকম নয়। ৫ বছর ধরে আমি সংসার করছি। তার মধ্যে এরকম কখনো কেন খারাপ কিছু দেখতে পাইনি ।
রায়পুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল মান্নান বলেন, শুনেছি অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিম আদালতে হাজিরা দিতে গেলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠান। ঘটনার পরের রাতে আবদুর রহিমের বিরুদ্ধে শিশু ছাত্রীর মা থানায় এসে মামলা করেন। ইতিমধ্যে মামলাটির চার্জশিটও দেওয়া হয়েছে ।