
রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধবিরতির পর ইউক্রেনের ভূখণ্ডে সেনা মোতায়েনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য। যুক্তরাষ্ট্রও এই প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা গ্যারান্টি সমর্থন করছে এবং যুদ্ধবিরতির পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার নেতৃত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) তথাকথিত ‘ইচ্ছুকদের জোট’-এর শীর্ষ সম্মেলনে এই প্রতিশ্রুতি জানানো হয়েছে। এই জোটে ৩৫টি দেশ অন্তর্ভুক্ত, যারা রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইউক্রেনকে সমর্থন দিচ্ছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৭ জন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানসহ দেশগুলোর প্রতিনিধি প্যারিসে মিলিত হয়ে কিয়েভের জন্য যুদ্ধোত্তর নিরাপত্তা গ্যারান্টি শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা করেছেন।
আলোচনার পর ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার একটি অভিপ্রায় ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তিতে যুদ্ধ-পরবর্তী সেনা মোতায়েনের কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।
ম্যাক্রোঁ বলেন, প্যারিস ‘কয়েক হাজার’ সেনা পাঠাতে সক্ষম।
আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন, যা আটলান্টিক অঞ্চলের সমন্বয় নির্দেশ করে। আলোচনায় ছিলেন রাষ্ট্রদূত স্টিভ উইটকফ, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকিউইচ।
উইটকফ বলেন, “ট্রাম্প নিরাপত্তা প্রোটোকলের পক্ষে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছেন এবং গ্যারান্টিগুলো গুরুত্বপূর্ণ যাতে ইউক্রেনের জনগণ নিশ্চিত হতে পারে, যুদ্ধের পর এটি স্থায়ীভাবে শেষ হবে।”
তিনি আরও বলেন, “নিরাপত্তা কাঠামোর মূল লক্ষ্য হলো ইউক্রেনে ভবিষ্যতে যে কোনো আক্রমণ বা পুনরায় আক্রমণ রোধ করা।”
জ্যারেড কুশনার প্যারিসের বৈঠককে ‘একটি খুব বড় মাইলফলক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “যদি ইউক্রেনীয়রা চূড়ান্ত চুক্তি করতে চায়, তবে তাদের জানা উচিত যে চুক্তির পর তারা নিরাপদ—তাদের কাছে স্পষ্টভাবে একটি শক্তিশালী প্রতিরোধ ব্যবস্থা থাকবে।”