
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় উদ্ধার হলো বিপুল পরিমাণ হাত বোমা তৈরির বিস্ফোরক দ্রব্য। পুলিশের বোম ডিসপোজাল ইউনিটের অভিযানে একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত বসতঘর থেকে এসব সামগ্রী উদ্ধার করা হয়, যা দিয়ে শতাধিক ককটেল তৈরি সম্ভব বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার ৯ তারিখ সকালে জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের মুলাই ব্যাপারীকান্দি গ্রামে বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত ওই বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক দিয়ে একশটিরও বেশি ককটেল তৈরি করা যেত এবং দুর্ঘটনার সময় অন্তত শতাধিক হাত বোমার বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার দিবাগত ভোররাতে ওই বাড়িতে ককটেল প্রস্তুতের সময় হঠাৎ একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। এতে পুরো বসতঘরটি ধসে পড়ে এবং ঘটনাস্থলেই দুই যুবকের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় আরেকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এলাকাটিতে প্রায় দুই দশক ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কুদ্দুস বেপারী ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জলিল মাদবরের অনুসারীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলমান। অতীতেও দুই পক্ষের সংঘর্ষে শত শত ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটেছে এবং এসব সহিংস ঘটনায় অন্তত ১০ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
এ ঘটনার পর পুলিশ অভিযান জোরদার করেছে। বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুইজনকে আটক করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে।
বোম ডিস্পোজাল ইউনিটের ইন্সপেক্টর শঙ্কর কুমার দাস বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশের বোম ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্তের কাজ শুরু করে। বিস্ফোরণ হওয়া বাড়ি থেকে বোমা তৈরির জর্দার কৌটা, তারকাটাসহ বিভিন্ন ধরনের বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক দিয়ে অন্তত ১০০ ককটেল বানানো সম্ভব।”