
ইউক্রেন দাবি করেছে, যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ সেনাদের প্রাণহানি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে স্বেচ্ছাসেবকভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থায় তা আর দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখা সম্ভব নয়। কিয়েভের মতে, এই বাস্তবতা রাশিয়াকে সক্রিয় রিজার্ভ বাহিনী ব্যবহারের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
গত সোমবার সন্ধ্যায় দেওয়া ভাষণে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, শুধু ডিসেম্বর মাসেই ৩৫ হাজার রুশ সেনা নিহত হয়েছেন এ দাবির ভিডিও প্রমাণ রয়েছে। তার আগে নভেম্বর ও অক্টোবরে নিহতের সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৩০ হাজার ও ২৬ হাজার। ইউক্রেনের সেনাপ্রধান ওলেক্সান্দ্র সিরস্কিও একই বক্তব্য পুনর্ব্যক্ত করে জানান, প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি এর চেয়েও বেশি।
সিরস্কির ভাষ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বর ২০২৫ ছিল প্রথম মাস, যখন ইউক্রেনের ড্রোন ইউনিটগুলো রাশিয়ার মাসিক গড়ের সমানসংখ্যক সেনাকে নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম হয়েছে।
রাশিয়া বরাবরই বলে আসছে, তারা বাধ্যতামূলক সেনা নয়; বরং চুক্তিভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবকদের দিয়ে ইউক্রেনে ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ পরিচালনা করছে। তবে ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে রাশিয়া ৪ লাখ ৩ হাজার সেনা নিয়োগের লক্ষ্য পূরণ করেছে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্কট্যাংক ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার (আইএসডব্লিউ) জানিয়েছে, রাশিয়া ইতোমধ্যে বেলগোরোদ অঞ্চলে রিজার্ভ ইউনিটে ভারী অস্ত্র মোতায়েন শুরু করেছে। এটি ভবিষ্যতে ওই বাহিনীকে সরাসরি যুদ্ধে নামানোর প্রস্তুতির ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রিজার্ভ বা বাধ্যতামূলক সেনা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কারণ এখন পর্যন্ত যুদ্ধের প্রভাব মূল রুশ সমাজে তুলনামূলকভাবে সীমিতই থেকেছে।
ইউক্রেন আরও দাবি করেছে, গত বছর রাশিয়ার প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার সেনা নিহত বা আহত হয়েছেন।
ড্রোন যুদ্ধের তীব্রতা
জেলেনস্কির মতে, ইউক্রেনের ড্রোন উৎপাদন বৃদ্ধি রুশ সেনাদের উচ্চ ক্ষয়ক্ষতির অন্যতম কারণ। এই খাতকে আরও জোরদার করতেই সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী করা হয়েছে।
এদিকে রাশিয়াও কৌশল বদলেছে। তারা ফাইবার-অপটিক ড্রোন ব্যবহার করছে, যা ইলেকট্রনিক জ্যামিংয়ের বাইরে থাকে। পাশাপাশি বড় আকারের যান্ত্রিক হামলার বদলে ছোট ছোট দলে অনুপ্রবেশ কৌশল গ্রহণ করেছে। এর ফলে ডোনেৎস্ক অঞ্চলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা তাদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
দূরপাল্লার হামলা ও তথ্যযুদ্ধ
নতুন বছরের প্রথম সপ্তাহেই রাশিয়া ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে ৭৮৯টি ড্রোন ও ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। ইউক্রেন জানায়, এর মধ্যে ৮৩ শতাংশ ড্রোন তারা ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে।
অন্যদিকে রাশিয়া অভিযোগ করেছে, ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট পুতিনের বাসভবনে হামলার চেষ্টা চালিয়েছে—যা কিয়েভ অস্বীকার করেছে। ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থার দাবি, আন্তর্জাতিক মহলকে বিভ্রান্ত করতে ক্রেমলিন পরিকল্পিতভাবে ভুয়া তথ্য ছড়াচ্ছে।
আল জাজিরা জানিয়েছে, তারা উভয় পক্ষের দাবিই স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
সূত্র: আল-জাজিরা