
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর অভিযানে অপহরণের কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি দেশটিতে নিযুক্ত চীনের বিশেষ দূতের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক পুনর্ব্যক্ত করা হয়। তবে এরপর ভেনেজুয়েলার সঙ্গে চীনের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক এবং দেশটিতে চীনের বড় বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মাদুরোকে আটক করার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র শুধু লাতিন আমেরিকায় নয়, বৈশ্বিক রাজনীতিতেও একটি শক্তিশালী বার্তা দিয়েছে। বিশেষ করে তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের প্রভাব মোকাবেলায় এটি নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পশ্চিম গোলার্ধকে তার প্রভাবক্ষেত্র হিসেবে দেখার প্রথাগত মনরো নীতি পুনরুজ্জীবিত করতে চান। তার সর্বশেষ জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে চীনের প্রভাব মোকাবেলায় জোর দেওয়া হয়েছে। এই নীতির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি অঞ্চল চায়, যা “বিদেশি শক্তির প্রভাব থেকে মুক্ত”, যার ইঙ্গিত সরাসরি চীনের দিকে।
মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলাকে তেল উৎপাদনের অনুমতি দেওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্র চীন, রাশিয়া, ইরান ও কিউবার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার শর্ত দিতে পারে। হোয়াইট হাউস এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করেনি।
চীন এই অভিযানকে “আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন” হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে এবং ওয়াশিংটনকে ভেনেজুয়েলায় সরকার উৎখাতের চেষ্টা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঘটনা লাতিন আমেরিকায় চীনের বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্বের ঝুঁকি আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে।
জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক সিমোনা গ্রানো বলেন, “এই ঘটনা চীনের জন্য দ্ব্যর্থী বার্তা দিচ্ছে। একদিকে লাতিন আমেরিকায় চীনের অবস্থান দুর্বল হচ্ছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব পূর্ব এশিয়ায়, বিশেষ করে তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের অবস্থান জোরালো করতে পারে।”
চীন তাইওয়ানকে তার ভূখণ্ডের অংশ দাবি করে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। যদিও সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা কম, তবু যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলা অভিযান ভবিষ্যতে সেই যুক্তি হিসেবে ব্যবহার হতে পারে।
এদিকে ভেনেজুয়েলার এই ঘটনা চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেক নেটিজেন তাইওয়ানের সঙ্গে তুলনা টেনে মন্তব্য করেছেন যে, শক্তিশালী রাষ্ট্র ছাড়া আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে টিকে থাকা কঠিন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেনেজুয়েলায় মাদুরোর অপসারণ চীনের পররাষ্ট্রনীতিতে বড় পরিবর্তন আনবে না। তবে এটি স্পষ্ট করেছে যে, লাতিন আমেরিকায় চীনের বিনিয়োগ অধিক রাজনৈতিক ঝুঁকির মুখে। তথাপি বেইজিং এই অঞ্চলে থাকাই বেছে নেবে এবং ঝুঁকি কমানোর কৌশল অবলম্বন করবে।
সূত্র: আল-জাজিরা