
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মাঝেই দেশটির সামরিক বাহিনীর প্রধান জেনারেল আমির হাতামি সতর্ক করে বলেছেন, বাইরের কোনো শক্তির হুমকি তেহরান নীরবে সহ্য করবে না। বুধবার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
হাতামি বলেন, “ইরানি জাতির বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্যকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে, এই ধরনের বক্তব্য সহ্য করা হবে না এবং এর কঠোর জবাব দেওয়া হবে।”
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, “শত্রুপক্ষ যদি ভুল করে, তাহলে ইরানের প্রতিক্রিয়া গত জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘটিত ১২ দিনের যুদ্ধের চেয়েও কঠোর হবে।”
দেশটিতে সরকারবিরোধী আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করায় গত কয়েক দিনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার ইরানের শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীরা যদি নিহত হয়, তাতে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করতে পারে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও ইরানের বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
২৮ ডিসেম্বর তেহরানে ব্যবসায়ীরা আকাশচুম্বী মূল্যস্ফীতি ও রিয়ালের দরপতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু করেন। কয়েক দিনের মধ্যেই এই বিক্ষোভ অন্যান্য শহরেও ছড়িয়ে পড়ে। এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ৩৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।
তবে এ বিক্ষোভ ২০২২-২০২৩ সালের আন্দোলনের মতো ব্যাপক রূপ নেয়নি, এমনকি ২০০৯ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের পরের বিক্ষোভ পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
অর্থনৈতিক সংকটের কারণে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ আন্তর্জাতিক পর্যায়ের নজর কেড়েছে। ইরানের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর নেতারা বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
রোববার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে ট্রাম্প বলেন, “আমরা ইরানের পরিস্থিতি অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। অতীতে যেমন তারা মানুষ হত্যা করেছে, যদি আবার তা শুরু করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
এদিকে, ইসরায়েলের মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেতানিয়াহু বলেন, “ইরানি জনগণের লড়াই এবং স্বাধীনতা, মুক্তি ও ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষার প্রতি আমরা সংহতি প্রকাশ করছি।”
এ বিষয়ে সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে সহিংসতায় উসকানি দেওয়া এবং ইরানের জাতীয় ঐক্য ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করার অভিযোগ করেছে।
গত জুনে ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনায় ইসরায়েলের নজিরবিহীন হামলার মাধ্যমে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রও স্বল্প সময়ের জন্য ওই হামলায় অংশ নেয় এবং ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় আঘাত হানে।
সূত্র: এএফপি