
ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দাবির সরাসরি জবাব দিয়েছেন দেশটির অন্তর্বর্তী নেতা ডেলসি রদ্রিগেজ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ভেনেজুয়েলা কোনো বিদেশি শক্তির দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার তেলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করার পরই এ বক্তব্য দেন তিনি।
কারাকাসে দেওয়া এক ভাষণে রদ্রিগেজ বলেন, ভেনেজুয়েলার শাসনভার দেশটির নিজস্ব সরকারের হাতেই রয়েছে, অন্য কারও নয়।
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, ভেনেজুয়েলা কোনো বিদেশি এজেন্টের অধীনে পরিচালিত রাষ্ট্র নয়।
এর আগে নাটকীয় এক অভিযানে মার্কিন বিশেষ বাহিনী ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যায়। মাদুরো সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন ডেলসি রদ্রিগেজ। ওই ঘটনার তিন দিন পর তিনি এই বক্তব্য দিলেন।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভেনেজুয়েলার নিয়ন্ত্রণ এখন ওয়াশিংটনের হাতে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, রদ্রিগেজ প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রকে কোটি কোটি ব্যারেল তেল সরবরাহ করবে এবং সেই তেল বিক্রির অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এ বিষয়ে জ্বালানিমন্ত্রীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে বলে জানান ট্রাম্প।
রদ্রিগেজ একদিকে সমঝোতার ইঙ্গিত দিলেও অন্যদিকে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে কঠোর অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করছেন। মাদুরো গ্রেপ্তারের পর থেকেই রাজধানীতে সেনা ও আধাসামরিক বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা আত্মসমর্পণ করি না, হালও ছাড়ি না।’
মার্কিন অভিযানে নিহতদের ‘শহীদ’ ঘোষণা করে ভেনেজুয়েলায় সাত দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হচ্ছে। দেশটির সামরিক বাহিনীর দাবি, ওই হামলায় তাদের ২৩ জন সেনা নিহত হয়েছেন। কিউবা জানিয়েছে, একই ঘটনায় তাদের ৩২ জন সেনাও প্রাণ হারিয়েছেন।
এদিকে মাদুরোর সমর্থকেরা কারাকাসের রাস্তায় মিছিল করে তাঁর মুক্তির দাবি জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে আদালতে হাজির হয়ে মাদুরো দম্পতি নিজেদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে রদ্রিগেজ প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার পথে যেতে পারে। তবে একই সঙ্গে দেশের ভেতরে কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার কৌশলও অব্যাহত রাখছে সরকার।