
ইয়েমেনের তেলসমৃদ্ধ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ হাদরামাউতে সৌদি আরবের বিমান হামলায় শুক্রবার অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। সাইয়ুন বিমানবন্দর ও আশপাশের আবাসিক এলাকায় চালানো এই হামলায় আরও অনেক বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া স্থানীয় চিকিৎসা সূত্রের বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
শুক্রবার (০২ জানুয়ারি) সাইয়ুন পাবলিক হাসপাতালের এক সূত্র জানিয়েছে, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালে ২০টির বেশি মরদেহ আনা হয়েছে। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর, তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, আকস্মিক ও তীব্র বিমান হামলার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার প্রাণভয়ে ঘরবাড়ি ত্যাগ করে নিরাপদ স্থানে চলে গেছে।
হাদরামাউতে ইতিমধ্যেই স্থলযুদ্ধে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রদেশটির সামরিক ঘাঁটি এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান দখলের জন্য এসটিসি-সমর্থিত বাহিনী ও ইয়েমেনি সরকারি সেনাদের মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে। উভয় পক্ষই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার করতে মরিয়া।
একই দিনে দক্ষিণ ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি) দুই বছরের অন্তর্বর্তীকালীন শাসনের ঘোষণা দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, এই সময়ে দেশের দক্ষিণাঞ্চল শাসন করবে এবং পরবর্তীতে দক্ষিণ ইয়েমেনের স্বাধীনতা প্রশ্নে গণভোট আয়োজন করা হবে।
গত মাসে এসটিসি হাদরামাউত ও পূর্বাঞ্চলীয় আল-মাহরাহ প্রদেশের বিস্তীর্ণ এলাকা দখলে নেওয়ার পর ইয়েমেন সরকারের সঙ্গে উত্তেজনা তীব্র হয়ে উঠেছে। সৌদি আরব এসব অঞ্চলকে ‘রেড লাইন’ হিসেবে বিবেচনা করছে, কারণ এগুলো দেশের সীমান্তের কাছে এবং ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ তেল ও জ্বালানি সম্পদের বড় অংশ এখানে অবস্থিত।
ইয়েমেন ২০১৪ সাল থেকে গৃহযুদ্ধে জর্জরিত। হুথি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানাসহ উত্তরাঞ্চল দখল করলে ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট দেশটিতে সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু করে। ২০১৭ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পৃষ্ঠপোষকতায় গঠিত এসটিসি দক্ষিণ ইয়েমেনের স্বায়ত্তশাসন এবং স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। ২০২২ সালে তারা সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটে যোগদান করলেও দক্ষিণের সার্বভৌমত্বের বিষয়টি অপরিবর্তিত রেখেছে।
সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষিতে সৌদি আরব গত মঙ্গলবার ইউএইকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইয়েমেন থেকে তাদের বাহিনী প্রত্যাহার ও বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সব ধরনের সহায়তা বন্ধের আহ্বান জানায়। পরে শুক্রবার ইউএই ঘোষণা করে, তারা ইয়েমেন থেকে সমস্ত সশস্ত্র বাহিনী নিরাপদে প্রত্যাহার করেছে।
এদিকে, বিমান হামলা নিয়ে এখনও সৌদি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।