
দক্ষিণাঞ্চলীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি) আগামী দুই বছরের মধ্যে দক্ষিণ ইয়েমেনে গণভোটের মাধ্যমে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এই সিদ্ধান্ত এসেছে এমন এক সময়, যখন গত মাসে তাদের দখলে থাকা অঞ্চলের পুনরুদ্ধারে সৌদি সমর্থিত বাহিনী দক্ষিণ ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করেছে। এর ফলে দেশটির রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা আরও গভীর হয়েছে।
শুক্রবার হাজরামাউত প্রদেশে সৌদি সমর্থিত গভর্নরের বাহিনী ও এসটিসি-সমর্থিত যোদ্ধাদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়। এসটিসি অভিযোগ করেছে, সৌদি বিমান হামলায় আল-খাশা এলাকায় সাতজন নিহত এবং ২০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। তবে প্রাদেশিক গভর্নর সালেম আল-খানবাশি এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, “এসটিসির কাছ থেকে সামরিক ঘাঁটি পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ কোনো যুদ্ধ ঘোষণা নয়, বরং এটি সরকারের নিয়ন্ত্রণে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা।”
এসটিসি প্রেসিডেন্ট আইদারুস আল-জুবাইদি এক টেলিভিশন ভাষণে দুই বছর মেয়াদি অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের ঘোষণা দেন। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তায় দক্ষিণ ও উত্তর ইয়েমেনের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনার উদ্যোগ নেবেন। তবে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “যদি আলোচনায় সাড়া না আসে বা দক্ষিণাঞ্চলীয় জনগণ ও বাহিনী হামলার শিকার হয়, আমরা অবিলম্বে স্বাধীনতার সাংবিধানিক ঘোষণা কার্যকর করব।”
সৌদি আরব শনিবার (৩ জানুয়ারি) সব পক্ষকে আলোচনায় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য, “দক্ষিণাঞ্চলের সংকটের ন্যায্য সমাধানের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা” তৈরি করা। এই আহ্বান এসেছে প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান রশাদ আল-আলিমির অনুরোধে।
উল্লেখ্য, গত মাসে এসটিসি হাদ্রামাউত ও আল-মাহরা প্রদেশের কিছু অংশ দখলে নেওয়ায় ইয়েমেন সরকারের সঙ্গে সৌদি আরবের সমর্থিত জোটের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এসটিসিকে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং জানিয়েছে, তারা সৌদি আরবের নিরাপত্তার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইতিমধ্যে ইউএই তাদের সব সেনা ইয়েমেন থেকে প্রত্যাহার করেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এসটিসির এই ঘোষণার ফলে ইয়েমেনের ঐক্য ও একক রাষ্ট্র কাঠামো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। রিয়াদ ও ইয়েমেন সরকার সতর্ক করে জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলে এসটিসির বৃদ্ধি প্রজাতন্ত্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি।
এদিকে, এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় শুক্রবারও ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত ছিল। দুই পক্ষ একে অপরকে দায়ী করলেও এসটিসি নিয়ন্ত্রিত পরিবহন মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, বিমানবন্দর থেকে নির্দিষ্ট রুটে ফ্লাইটগুলোকে জেদ্দায় নামতে বাধ্য করা হয়েছে অর্থ পাচার রোধের জন্য।
সৌদি-আমিরাত-এসটিসি জোট দীর্ঘদিন ধরে হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। তবে এসটিসির বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা এবং এর পেছনে আমিরাতের সমর্থনের অভিযোগ জোটের ভেতর নতুন উত্তেজনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।