
গাজায় চলমান মানবিক সংকটের প্রেক্ষাপটে হলিউড অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি শুক্রবার রাফাহ সীমান্তের মিসরীয় অংশে সরেজমিন পরিদর্শনে যান। সেখানে তিনি মিসরীয় রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবক ও ত্রাণবাহী ট্রাকচালকদের সঙ্গে কথা বলেন বলে এএফপির সাংবাদিকরা জানিয়েছেন।
একটি মার্কিন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় পৌঁছান অস্কারজয়ী এই অভিনেত্রী। সফরকালে সাবেক ও বর্তমান বিভিন্ন কর্মকর্তার পক্ষ থেকে তাকে অভ্যর্থনা জানানো হয়। স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে জোলি বলেন, তাদের সঙ্গে দেখা করতে পেরে তিনি ‘গর্বিত’।
রেড ক্রিসেন্টের এক স্বেচ্ছাসেবক জোলিকে জানান, সীমান্ত অতিক্রমের অপেক্ষায় বর্তমানে ‘হাজারো সহায়তাবাহী ট্রাক’ দাঁড়িয়ে আছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার সাবেক বিশেষ দূত জোলি এই সফরে মিসরে চিকিৎসাধীন আহত ফিলিস্তিনিদের অবস্থা পর্যালোচনা এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় ত্রাণ প্রবেশের বাস্তব পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এসেছেন।
তবে এই সফর নিয়ে এখন পর্যন্ত জোলি কিংবা মিসরীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
অক্টোবর থেকে কার্যকর যুদ্ধবিরতির আওতায় রাফাহ সীমান্ত খোলার কথা থাকলেও বাস্তবে সীমান্তটি এখনও বন্ধ রয়েছে।
এদিকে শুক্রবার দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে মিসর, সৌদি আরবসহ আরও ছয়টি দেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, অধিকৃত শক্তি হিসেবে ইসরায়েলের ওপর দ্রুত চাপ সৃষ্টি করে গাজায় প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও সরঞ্জাম প্রবেশ এবং বিতরণে বিদ্যমান বাধা অপসারণ করতে হবে।
এর আগে ডিসেম্বরের শুরুতে ইসরায়েল দাবি করেছিল, রাফাহ সীমান্ত কেবল গাজা ত্যাগে ইচ্ছুকদের জন্য খোলা হবে। তবে মিসর দ্রুতই সে দাবি নাকচ করে জানায়, এ ধরনের কোনো পদক্ষেপের অনুমোদন দেওয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, হলিউডের সবচেয়ে পরিচিত মুখগুলোর একজন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি ২০২২ সালের শেষ দিকে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার বিশেষ দূতের দায়িত্ব ছাড়েন। টানা দুই দশকের বেশি সময় এই দায়িত্ব পালনের পর তিনি জানান, ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত মানবিক ইস্যুতে কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে।