
দেশে চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত সার রয়েছে, তবে সুষ্ঠু বণ্টনের ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে পঞ্চগড় সদর উপজেলা মিলনায়তনে প্রশাসন ও জেলার নিবন্ধিত রাসায়নিক সার ডিলারদের সঙ্গে সার সরবরাহ, বিতরণ, মজুদ ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘অনেকেই ঠিকভাবে সার সরবরাহ না করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছেন। আমাদের ম্যাসেজ ক্লিয়ার, সার নিয়ে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে মব, আতঙ্ক ও গুজব সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া হবে না।’
তিনি জানান, অতীতে যাদের সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, তাদের অনেকেই একটি রাজনৈতিক দলের অনুসারী ছিলেন। আবার কেউ কেউ পারিবারিকভাবে ডিলারশিপ পেয়েছেন। তাদের অনেকেই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
কৃষকদের কাছে সারের সরবরাহ আরও সুশৃঙ্খল করতে সরকার প্রতিটি ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জানিয়ে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, বর্তমানে দায়িত্বে থাকা ডিলারদেরও বাদ দেওয়া হবে না।
ছোট ও বর্গাচাষিরা সার কিনতে গিয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব কৃষকের প্রয়োজন তুলনামূলক কম হলেও অনেক সময় তারা চাহিদামতো সার পান না। সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগের বিষয়েও কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি স্বীকার করেন আর না করেন যে সারের দাম ১২০০ টাকা, সেটা রাতের আঁধারে ১৭০০/১৮০০ টাকা বিক্রি হয়েছে। প্রশাসনকে বলব—আপনাদের শক্ত হাতে প্রদক্ষেপ নিতে হবে, যেন কেউ সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে এক টাকা বেশি দামে কোন সার বিক্রি করতে না পারে।’
এ সময় কৃষকদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত সার মজুদ না করা এবং জমিতেও প্রয়োজনের বেশি সার ব্যবহার না করার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ হোসেন, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল মতিন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিরুল ইসলাম কাচ্চু, চেম্বারের সভাপতি শরিফ হোসেনসহ প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।