
হঠাৎ পরিবহন ধর্মঘটে স্থবির হয়ে পড়েছে চুয়াডাঙ্গার সড়ক যোগাযোগ। শ্রমিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদ এবং ইজিবাইকের অবৈধ চলাচল বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল থেকে জেলার সব রুটে বাস ও মিনিবাস চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে চুয়াডাঙ্গা আন্তঃজেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতি।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় সংগঠনের জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে ধর্মঘটের বিষয়টি জানানো হয়।
বাস চলাচল বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। জরুরি প্রয়োজনে গন্তব্যে যেতে না পেরে অনেকেই বাস টার্মিনালে অপেক্ষা করছেন। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে বেশি ভাড়া দিয়ে বিকল্প যানবাহনে যাতায়াত করছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আন্তঃজেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের কর্মীদের ওপর ইজিবাইক শ্রমিকদের হামলা ও মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।
ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট)। দৌলতদিয়াড় এলাকা থেকে একটি ইজিবাইক চুয়াডাঙ্গা শহরে ঢোকার চেষ্টা করলে পুলিশ ও বাস শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা সেটিতে বাধা দেন। পরে ওই ইজিবাইকচালক কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে আলোকদিয়া এলাকায় জড়ো হন। একপর্যায়ে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে চলাচলকারী একটি বাস আটকে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
এ সময় বাসের চালক ও সুপারভাইজারকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার পাশাপাশি বাসটিতে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন শ্রমিকরা। খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এর প্রতিবাদে এবং হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাকর্মী ও সাধারণ শ্রমিকরা দৌলতদিয়া এলাকায় বাস আড়াআড়ি রেখে সড়ক অবরোধ করেন।
নিরাপত্তা নিশ্চিত ও হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দিনভর চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা-হাটবোয়ালিয়াসহ জেলার অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন রুটে বাস চলাচল বন্ধ ছিল। এর ধারাবাহিকতায় শনিবার সকাল থেকে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা-জীবননগর-হাসাদহ, চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা-কুষ্টিয়া এবং চুয়াডাঙ্গা-হাটবোয়ালিয়া রুটেও বাস চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পরে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপারের মধ্যস্থতা এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে ন্যায্য বিচারের আশ্বাস দেওয়ার পর শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ তুলে নেন। তবে হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে শুক্রবার চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা-হাটবোয়ালিয়া রুটে বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল। সেই কর্মসূচির পর শনিবার জেলার সব রুটে বাস বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় মালিকপক্ষ।
চুয়াডাঙ্গা আন্তঃজেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী আবুল কালাম আজাদ ধর্মঘটের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন।
মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা জানান, শ্রমিকদের ওপর হামলার সুষ্ঠু বিচার এবং সড়কে ইজিবাইকের অবৈধ চলাচল বন্ধে প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা থেকে কোনো রুটে বাস চলাচল করবে না।
শ্রমিক নেতারাও একই অবস্থান জানিয়ে বলেছেন, তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।