
পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত আজাদ কাশ্মীর (পিওকে) ভারতের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পক্ষে মন্তব্য করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বাইরে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান ‘হুমকির সংস্কৃতি’ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে শুভেন্দু বলেন, ক্যাম্পাসের ভেতরে ও বাইরে জাতীয়তাবাদী চেতনা পুনরুজ্জীবিত করা প্রয়োজন।
‘অপারেশন সিঁদুরের’ বিরোধিতা করে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বের করা প্রতিবাদ মিছিলেরও সমালোচনা করেন তিনি। কাশ্মীর কিংবা ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষে স্লোগান দেওয়ার আগে শিক্ষার্থীদের পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত আজাদ কাশ্মীরের স্বাধীনতার দাবি তোলার আহ্বান জানান তিনি।
তার ভাষায়, ‘আপনারা কি কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি বা ফ্রি প্যালেস্টাইনের মতো স্লোগান দিচ্ছেন? কেন? ফিলিস্তিন নিয়ে কথা বলার আগে লিখুন ফ্রি পিওকে (আজাদ কাশ্মীর)... মনে রাখবেন, আমরা অবশ্যই ওই কাশ্মীর ফেরত নেব।’
গত সপ্তাহে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজেপিপন্থি ছাত্র সংগঠন এবিভিপি ও বামপন্থি ছাত্রসংগঠন এসএফআইয়ের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন শুভেন্দু। সেখানে তিনি বলেন, ‘যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি হুমকির সংস্কৃতি বিরাজ করছে। এখন এটি শেষ করার সময় এসেছে।’
পশ্চিমবঙ্গের সাবেক তৃণমূল ও বাম সরকারের বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদ এবং রাজ্যের ঐতিহ্যকে অবমূল্যায়নের অভিযোগও করেন তিনি। শুভেন্দুর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কমিউনিস্টদের প্রভাবাধীন ছিল।
তার অভিযোগ, ওই সময় শিক্ষার্থীদের স্বাধীনতা দিবস, প্রজাতন্ত্র দিবস, ভারতীয় ও বাঙালি ঐতিহ্য এবং দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য থেকে দূরে রাখা হয়েছিল।
তিনি আরও দাবি করেন, ‘তাদের বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ছবি কখনও খুঁজে পাওয়া যাবে না।’