
রংপুরের পীরগঞ্জে দীর্ঘ ৬০ বছরের বিরতির পর দেশের প্রথম লোহার খনিতে নতুন কূপ খননের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার শানেরহাট ইউনিয়নের ছোট পাহাড়পুর গ্রামের ভেলামারী পাথারে এই কার্যক্রম উদ্বোধন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
শনিবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “দেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষ উদার। সৃষ্টিকর্তা এই অঞ্চলে খনিজ সম্পদ রেখেছেন। এখানে যে সম্পদ পাওয়া যাবে তা দেশের উন্নয়নে সহায়তা করবে। এটি কোনো সাধারণ বিষয় নয়, এটি জাতির স্বপ্ন।”
বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর আয়োজনকৃত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মহাপরিচালক আব্দুল মান্নান ও উপ-মহাপরিচালক আলী আকবর। জিএসবির উপ-মহাপরিচালক প্রকৌশলী আলী আকবর জানান, এর আগে একাধিক কূপ খনন করা হয়েছে। স্বাধীনতার পর ২০০০ সালে জিডিএইচ-৫৪ কূপ খনন করে ভূগর্ভের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। ২০২৩ সালে মিঠিপুর ইউপির কাশিমপুর গ্রামে ৭৮/২৩ নামক কূপ খনন করে কিছু খনিজ উপাদান পাওয়া গেছে। চলতি বছরে প্রায় এক হাজার ২০০ মিটার খনন সম্পন্ন হবে।
খনিজ উত্তোলন বিষয়ে তিনি বলেন, “রিসোর্স নিশ্চিত হলে এবং ব্যয়ের তুলনায় লাভ বেশি হলে সরকারকে খনি থেকে খনিজ উত্তোলনের জন্য অনুরোধ করা হবে।”
প্রাপ্ত খনিজের সম্ভাবনা সম্পর্কে তিনি জানান, “এখানকার বেজমেন্ট হাই, তাই লোহা, তামা, নিকেল, ম্যাঙ্গানিজ এবং স্বর্ণ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সঠিক তথ্য জানতে অনুসন্ধান শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।”
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. পপি খাতুন, শানেরহাট ইউপি চেয়ারম্যান মেছবাহুর রহমান, পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি ও মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা।
উল্লেখ্য, ১৯৬৫ সালে শানেরহাট ও মিঠিপুর ইউনিয়নের ভেলামারী পাথারে তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের খনিজ সম্পদ বিভাগ প্রথম প্রাথমিক খনি সন্ধান চালায়। সেই সময় চারটি কূপ খনন করে কংক্রিটের ঢালাই করা হয়, যা আজও দৃশ্যমান রয়েছে। ৬ সেপ্টেম্বর ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধের পর তৎকালীন খনিজ বিজ্ঞানীরা স্যাটেলাইট তথ্যের ভিত্তিতে প্রায় ছয় বর্গকিলোমিটার এলাকা পরিদর্শন করে প্রাথমিক জরিপ সম্পন্ন করেন। এরপর দীর্ঘ সময় খনির কার্যক্রম শুরু হয়নি।