
নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। তার অভিযোগ, প্রশাসনের রদবদল বিএনপির নেতাকর্মীদের চাওয়ার সঙ্গে মিল রেখে করা হচ্ছে, যা সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কুমিল্লা নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন চৌদ্দগ্রামে ‘বিএনপির নেতাকর্মীদের হামলায়’ আহত জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
মো. নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, ‘প্রশাসনের রদবদল বিএনপির নেতাকর্মীরা যেভাবে চেয়েছে সেভাবে করা হচ্ছে। কিছুদিন আগেও আমরা দেখেছি কয়েকজন ইউএনওকে বদলি করা হয়েছে। বিএনপির নেতাকর্মীরা সেই ইউএনও’র ব্যাপারে অভিযোগ দিয়েছে ইউএনও কেন বলেছে; তারা আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছে। এ কারণে ইউএনওদেরও বদলি করা হয়েছে। যেসব ইউএনও’র দাড়ি-টুপি রয়েছে তাদের ট্যাগ দিয়ে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় বদলি করা হচ্ছে।’
তিনি এসব কর্মকাণ্ডকে প্রশাসনের একপাক্ষিক আচরণ আখ্যা দিয়ে বলেন, বিএনপিকে সুবিধা দিতে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তার ভাষায়, এ ধারা অব্যাহত থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে আশাহত হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা দেখে মনে হচ্ছে, একটি পক্ষকে সুবিধা দিতে সব ধরনের বন্দোবস্ত করা হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার সুষ্ঠু নির্বাচনের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।
শেরপুরে জামায়াত নেতা রেজাউল করিম হত্যার প্রসঙ্গ টেনে শিবির সভাপতি বলেন, ‘যেভাবে বহুল আলোচিত ২৮ অক্টোবর লগি বৈঠা নিয়ে পৈশাচিকভাবে আমাদের দলের নেতাদের হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয়। সেইভাবে রেজাউল করিমের উপর হামলা করে শহীদ করা হয়েছে।’ তিনি অভিযোগ করেন, মা-বোনদের ওপর হামলার ঘটনাতেও প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না, বরং তারা নির্লিপ্ত অবস্থানে রয়েছে।
চৌদ্দগ্রামে সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান শিবির সভাপতি। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি হাসান আহমেদ, সেক্রেটারি নাজমুল হাসান পঞ্চায়েত, ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ শাখার সভাপতি মনির হোসেনসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা।