
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে জনসভা শেষে ফেরার পথে বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। কথাকাটাকাটির জেরে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১২ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বেলা আনুমানিক আড়াইটার দিকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগন্নাথ দীঘি ইউনিয়নের হাটবাইর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সোলেমান চৌধুরী, শিবির কর্মী রবিউল হোসেন রকি, জাকারিয়া, রাসেল, কাজী রাসেল, রিফাত ও সানি। অন্য কয়েকজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
আহতদের চৌদ্দগ্রাম উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, এর আগে শনিবার দুপুরে চৌদ্দগ্রাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সমাবেশ শেষ হওয়ার পর জামায়াতের নেতাকর্মীরা বাড়ি ফেরার পথে জগন্নাথ দীঘি ইউনিয়নের হাটবাইর গ্রাম এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠান। ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বেলাল হোসাইন সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের নেতাকর্মীরা আমিরে জামায়াতের সমাবেশ শেষে বাড়ি ফেরার পথে বিএনপির স্থানীয় বিএনপির মিজান খান, গাজী ইয়াছিন ও মোবারক চৌধুরীর নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় আমাদের অন্তত ৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদসহ জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি।”
তবে অভিযোগটি অস্বীকার করে উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সোলেমান চৌধুরী বলেন, “শনিবার দুপুরে বাড়িতে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা সমাবেশ শেষে ফেরার পথে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মিজানের বড়িতে আক্রমণ চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। এতে বিএনপির স্থানীয় নেতারা এগিয়ে আসলে জামায়াত-শিবির আবারও তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় আমি ও আমার গাড়ির চালক আহত হয়েছেন।”
চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু মাহমুদ কাওসার হোসেন সাংবাদিকদের জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।