
অধিকৃত পশ্চিম তীরের উত্তরে ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানের কারণে এখনো ১২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি শিশু জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছে—এমন তথ্য জানিয়েছে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ। রবিবার সংস্থাটির বরাতে এ খবর প্রকাশ করেছে আনাদোলু।
ইউএনআরডব্লিউএ জানায়, ২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী পশ্চিম তীরের উত্তরে সামরিক অভিযান শুরু করে। প্রথমে জেনিন শরণার্থী শিবিরে অভিযান চালানো হয়, পরে তা নূর শামস ও তুলকারেম শরণার্থী শিবিরে ছড়িয়ে পড়ে।
বর্তমানে এই তিনটি শিবিরই ইসরায়েলি বাহিনীর অবরোধে রয়েছে। অভিযানের সময় অবকাঠামো, বসতবাড়ি ও দোকানপাটে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এসব অভিযানে প্রায় ৫০ হাজার ফিলিস্তিনি নিজ ঘরবাড়ি ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
মার্কিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইউএনআরডব্লিউএ বলেছে,
“অধিকৃত পশ্চিম তীরে ১২ হাজারের বেশি শিশু এখনো জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছে।”
এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সংস্থাটি জানায়, তারা “২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাস্তুচ্যুত শিশুদের জন্য জরুরি শিক্ষা কর্মসূচি চালু করেছে।”
ইউএনআরডব্লিউএ আরও জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের জন্য তারা “অস্থায়ী শিক্ষাকেন্দ্র, অনলাইন পাঠদান, স্বশিক্ষণ উপকরণ বিতরণ এবং মানসিক-সামাজিক সহায়তার” মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
সংস্থাটির তথ্যমতে, অধিকৃত পশ্চিম তীরজুড়ে বর্তমানে তাদের পরিচালিত স্কুলগুলোতে ৪৮ হাজার শিশু নিয়মিত পড়াশোনা করছে।
ফিলিস্তিনি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী ও অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় পূর্ব জেরুজালেমসহ অধিকৃত পশ্চিম তীরে অন্তত ১,১০৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, প্রায় ১১ হাজার আহত হয়েছেন এবং আনুমানিক ২১ হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে।
এদিকে গত বছরের জুলাইয়ে দেওয়া এক ঐতিহাসিক মতামতে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারিত্বকে অবৈধ ঘোষণা করে এবং পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম থেকে সব বসতি উচ্ছেদের আহ্বান জানায়।