
সিলেট টেস্টের চতুর্থ দিনে একসময় মনে হচ্ছিল, ক্রিকেট ম্যাচ নয়, যেন থেমে থেমে মঞ্চস্থ হচ্ছে নাটকের মহড়া। ব্যাট হাতে পাকিস্তানের মোহাম্মদ রিজওয়ান বারবার খেলা থামাচ্ছেন, সাইট স্ক্রিন নিয়ে আপত্তি তুলছেন, আর ততক্ষণে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের ধৈর্যের বাঁধ ভাঙছে ধীরে ধীরে। শেষ পর্যন্ত মাঠেই শুরু হয় কথার লড়াই, যেখানে ব্যাট-বলের চেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে আসে ‘ওভার অ্যাক্টিং’।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-পাকিস্তান দ্বিতীয় টেস্টের চতুর্থ দিনে এই ঘটনা ঘটে। পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে সালমান আগার সঙ্গে জুটি গড়ে দলকে টেনে তুলছিলেন রিজওয়ান। তবে ইনিংসের মাঝপথে কয়েকবার খেলা থামিয়ে দেন তিনি। সাইট স্ক্রিনের সামনে নড়াচড়ার অভিযোগ তুলে বারবার আম্পায়ারের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় তাকে।
একপর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের উইকেটকিপার লিটন দাসের সঙ্গে রিজওয়ানের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে মাঠে। কিছু সময়ের জন্য খেলা বন্ধও থাকে।
এরপর স্টাম্প মাইকে ভেসে আসে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের একের পর এক খোঁচা। পাক-ব্যাটাররা যাতে বুঝতে পারে সেজন্য উর্দু বা হিন্দীতেই তাদের স্লেজিং শুরু করেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা।
লিটনের মন্তব্য, ‘ভালোই অভিনয় করছে, সবাইকে শেখাতে চায়।’ আরও একজন বলেন, ‘দলে জায়গা পাকা করার জন্যই এত নাটক!’
তবে সবচেয়ে হাস্যকর মুহুর্তের অবতারণা হয় যখন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে বলতে শোনা যায়, ‘ওভার অ্যাক্টিংয়ের জন্য ৫০ পয়সা কাটা উচিত।’ মূলত বলিউড অভিনেতা অক্ষয় কুমারের একটি কমেডি সিনেমার বিখ্যাত সংলাপ ব্যবহার করেই রিজয়ানকে স্লেজ করেন তিনি।
এদিকে মাঠের এই ঘটনাকে ঘিরে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ক্রিকেটভক্তদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। কেউ রিজওয়ানের আচরণকে ‘অতিরিক্ত নাটক’ ও সময়ক্ষেপণের চেষ্টা বলে কটাক্ষ করছেন, আবার কেউ বলছেন, ব্যাটিংয়ের সময় মনোযোগ ধরে রাখতে একজন ব্যাটারের সাইট স্ক্রিন নিয়ে আপত্তি তোলার অধিকার আছে।
বাংলাদেশি সমর্থকদের অনেকেই লিটন দাস ও টাইগার ক্রিকেটারদের স্লেজিংকে ‘মাঠের স্বাভাবিক উত্তাপ’ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে পাকিস্তানি সমর্থকদের একটি অংশ অভিযোগ তুলেছেন, ইচ্ছাকৃতভাবে রিজওয়ানকে মানসিক চাপে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। ম্যাচের উত্তেজনার পাশাপাশি এই বাকযুদ্ধ এখন ছড়িয়ে পড়েছে ফেসবুক, এক্স ও ইউটিউবের মন্তব্যঘরেও।
মাঠের পরিস্থিতি তখন এমন ছিল, যেন প্রতিটি বলের সঙ্গে বাড়ছিল স্নায়ুচাপও। বাংলাদেশের বোলাররা উইকেটের খোঁজে মরিয়া, আর রিজওয়ান ছিলেন প্রায় মাটি কামড়ে পড়ে থাকা এক ব্যাটার। সব সমালোচনা, খোঁচা আর উত্তেজনার মধ্যেও তুলে নেন নিজের ১৪তম টেস্ট ফিফটি।
সালমান আগার সঙ্গে ষষ্ঠ উইকেটে ১৩৪ রানের জুটি গড়ে ম্যাচে পাকিস্তানকে ফেরান তিনি। সালমান ১০২ বলে ৭১ রান করে আউট হন। এরপর হাসান আলীকেও দ্রুত ফিরিয়ে দেন তাইজুল ইসলাম। সেই ধাক্কায় আবারও চাপে পড়ে পাকিস্তান।
দিন শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ৩১৬ রান। ৭৫ রানে অপরাজিত আছেন রিজওয়ান, সঙ্গে সাজিদ খান ৮ রানে। ম্যাচ জিততে পাকিস্তানের প্রয়োজন আরও ১২১ রান। আর বাংলাদেশের দরকার মাত্র ৩ উইকেট।
চতুর্থ দিনের শেষ বিকেলে তাইজুল ইসলামের স্পিনে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আবার বাংলাদেশের দিকে ঝুঁকেছে। তবে রিজওয়ান এখনো উইকেটে থাকায় শেষ দিনের লড়াই জমে উঠার ইঙ্গিত মিলছে আগেভাগেই।