
সিলেট টেস্টে আবারও ব্যাট হাতে উজ্জ্বল লিটন দাস। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরির পর দ্বিতীয় ইনিংসেও দারুণ ছন্দে খেলতে খেলতে ফিফটি তুলে নেন তিনি। যদিও শেষ পর্যন্ত আরেকটি সেঞ্চুরি ছোঁয়া হয়নি, তবু বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে নিজের অনন্য অবস্থান আরও শক্ত করলেন এই উইকেটকিপার ব্যাটার।
পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৯ রান করে আউট হন লিটন। হাসান আলীর বলে ডিপ থার্ডম্যান দিয়ে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে সীমানায় ক্যাচ দেন তিনি। এর আগে ১২৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছিলেন প্রথম ইনিংসে। ফলে এক টেস্টেই সেঞ্চুরি ও ফিফটির কীর্তি গড়েন তিনি।
বাংলাদেশের কোনো উইকেটকিপার ব্যাটারের জন্য এটি নতুন কিছু নয়, তবে এ রেকর্ডে এখনও একাই দাঁড়িয়ে আছেন লিটন। দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে একই টেস্টে সেঞ্চুরি ও ফিফটি করার ঘটনা হয়েছে তিনবার, আর তিনটিই লিটনের ব্যাট থেকে এসেছে।
এর আগে ২০২১ সালে চট্টগ্রাম টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ১১৪ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৯ রান করেছিলেন তিনি। পরে ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে খেলেছিলেন ১৪১ ও ৫২ রানের দুই ইনিংস। এবার সিলেটে যোগ হলো ১২৬ ও ৬৯ রানের আরেকটি জোড়া ইনিংস।
দ্বিতীয় ইনিংসে যখন লিটন ব্যাটিংয়ে নামেন, তখন বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৪ উইকেটে ১১৫ রান। সেখান থেকে মুশফিকুর রহিমকে সঙ্গে নিয়ে পঞ্চম উইকেটে ১২৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন তিনি। এর আগে প্রথম ইনিংসেও দলের বিপর্যয়ের সময় এক প্রান্ত আগলে রেখে খেলেছিলেন ম্যাচের অন্যতম সেরা ইনিংস।
এই টেস্টে দ্বিতীয় সেঞ্চুরিটা পেলে মুমিনুল হক ও নাজমুল হোসেন শান্তর পর বাংলাদেশের তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে এক ম্যাচের দুই ইনিংসেই শতকের কীর্তি গড়তে পারতেন লিটন। তবে সেই আক্ষেপ থাকলেও উইকেটকিপার হিসেবে তার ধারাবাহিক ব্যাটিং এখনো দেশের ক্রিকেটে আলাদা উচ্চতায় অবস্থান করছে।
সবচেয়ে বড় কথা, আগের দুইবারের মতো এবার অন্তত বাংলাদেশ চাপে নেই। সিলেট টেস্টে পাকিস্তানের ওপরই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে টাইগাররা। আর সেই পথ তৈরি করে দেওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদানগুলোর একটি এসেছে লিটনের ব্যাট থেকেই।